পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা) আসনের প্রার্থী নুরুল হক নুর ও হাসান মামুন
পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা) আসনের প্রার্থী নুরুল হক নুর ও হাসান মামুন

পটুয়াখালী-৩

সংঘাত এড়াতে নুরুল ও মামুনের নির্বাচনী কর্মসূচিতে প্রশাসনের বিধিনিষেধ

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের নির্বাচনী এলাকায় সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী নুরুল হক নুর ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুনের একাধিক নির্বাচনী কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে প্রশাসন। একই দিনে একই স্থানে দুই প্রার্থীর ঘোষিত বেশ কয়েকটি কর্মসূচি স্থগিতও করা হয়েছে।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী লিখিত আদেশে এ নির্দেশনা দেন। শুক্রবার রাতে আদেশটি স্বাক্ষর হলেও পরদিন শনিবার এটি প্রকাশিত হয়। আদেশের কপি দুই প্রার্থীকে দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তার চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, শনিবার বিকেল ৪টায় গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ও চরবিশ্বাস ইউনিয়নের একই স্থানে নুরুল হক ও হাসান মামুন পৃথকভাবে নির্বাচনী কর্মসূচির আয়োজন করেন। এ ছাড়া ৪ ফেব্রুয়ারি রতনদীতালতলী ইউনিয়নের কাটাখালী বাজারসংলগ্ন শরীফবাড়ি এলাকায়, ৫ ফেব্রুয়ারি গজালিয়া ইউনিয়নের আদানী বাজারে এবং ৬ ফেব্রুয়ারি গলাচিপার খারিজ্জমা কলেজ মাঠ ও পাশের বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নে উভয় প্রার্থীর পাশাপাশি সময়ে কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল।

চিঠিতে বলা হয়, গত ৩০ জানুয়ারি জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের বিশেষ শাখা এবং ২৯ জানুয়ারি গলাচিপার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও কার্যালয় থেকে পাঠানো পৃথক প্রতিবেদনে এসব কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির একটি অংশ নুরুল হকের পক্ষে এবং অপর অংশ হাসান মামুনের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এতে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ও বিদ্বেষ বাড়ছে।

চিঠিতে নুরুল ও মামুনকে সতর্ক করে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, প্রচারণার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি নিতে হবে এবং এমন কোনো কর্মসূচি দেওয়া যাবে না, যাতে ভীতি বা বাধার সৃষ্টি হয়। যথাযথ অনুমতি ছাড়া সভা-সমাবেশ করা যাবে না।

এ বিষয়ে নুরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শনিবার চরকাজল ও চরবিশ্বাসে তাঁর কর্মসূচি ছিল। কিন্তু পরিবেশ অশান্ত করতে হাসান মামুন একই দিনে একই স্থানে কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ফলে প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় উভয় কর্মসূচি স্থগিত করে। নুরুল দাবি করেন, তিনি আগে কর্মসূচির তালিকা জমা দিলেও পরে হাসান মামুন সংশোধিত তালিকা জমা দিয়ে সাংঘর্ষিক কর্মসূচি নির্ধারণ করেন।

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য হাসান মামুনের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

গলাচিপার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও মাহমুদুল হাসান বলেন, শনিবার চরবিশ্বাস ও চরকাজলে দুই প্রার্থীর পাশাপাশি কর্মসূচি থাকায় সংঘাতের আশঙ্কা ছিল। তাই লিখিতভাবে অবহিত করার পাশাপাশি ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পাঠিয়ে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। দুই প্রার্থীকে ভবিষ্যতের কর্মসূচি প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে চরকাজল ও চরবিশ্বাসে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন আছে এবং সংঘাত এড়াতে উপজেলায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।