
ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে গত শনিবার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে মানসিক প্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করতে দেখা যায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার এক চালককে। পরে অভিযান চালিয়ে ব্যক্তিকে আটক করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) একটি দল।
গতকাল রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার একটি এলাকা থেকে ইকরামুল হক (৩৭) নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাঁর বাড়ি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার লালবাগ উত্তরপাড়ায়। আজ সোমবার বিকেল সাড়ে চারটায় এসআরবি-১১ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত শনিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে একটি কলাবাগানে মানসিক প্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণ করেন ইকরামুল। কলাবাগান থেকে বের হওয়ার সময় এক ব্যক্তি ইকরামুলকে দেখতে পান এবং তাঁর ভিডিও ধারণ করেন। এ সময় ইকরামুল নিজের দোষ স্বীকার করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি দেখে এবং স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে মানসিক প্রতিবন্ধী ওই নারী মহাসড়কের পাস দিয়ে হাঁটছিলেন। সেখান থেকে তাঁকে মহাসড়কের পাশে নির্জন কলাবাগানে নিয়ে যান ইকরামুল। একপর্যায়ে ওই নারীকে তিনি ধর্ষণ করেন।
বিষয়টি এক ব্যক্তির নজরে এলে তিনি ইকরামুলকে আটক করেন এবং অটোরিকশার চাবি নিয়ে নেন। একজন সুস্থ মানুষ হয়ে ইকরামুল মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর সঙ্গে এমন কাজ কীভাবে করলেন, এই প্রশ্ন তোলেন ওই ব্যক্তি। একপর্যায়ে ইকরামুল ওই নারীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন এবং ভুল হয়ে গেছে বলে জানান।
এসআরবি-১১ জানায়, ভিডিওটি নজরে আসার পর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ইকরামুলকে আটক করা হয়। ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ইকরামুলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাঁকে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই অটোরিকশাচালককে আমাদের থানায় আনা হলে তাঁকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া হয়। ঘটনাস্থল পড়েছে মহাসড়কের শামুকসার এলাকায়, যেটা চৌদ্দগ্রাম থানার অধীন পড়েছে। পরে এসআরবির সদস্যরা তাঁকে চৌদ্দগ্রাম থানায় নিয়ে গেছেন। এ বিষয়ের বিস্তারিত এসআরবি বলতে পারবে।’
পরে এ বিষয়ে জানতে চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফ হোসাইনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয়। কিন্তু তিনি ধরেননি।
কথা হয় এসআরবি-১১ সিপিসি-২-এর উপপরিচালক ও কোম্পানি অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি ছুটিতে আছি। ঘটনাস্থল নিয়ে দুই থানা এলাকার মধ্যে কিছুটা ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। ওই এলাকা দুই থানার সীমান্তবর্তী এলাকা। বিষয়টি নিয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কথা বলছেন দুই থানার সঙ্গে। আশা করছি, কিছুক্ষণের মধ্যেই যেকোনো একটি থানা আসামিকে গ্রহণ করবে।’