আশুগঞ্জ আ.লীগের সম্মেলন

কমিটির মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হতে চান স্থানীয় নেতারা

২০১৩ সালে সম্মেলন হয়। দুই সদস্যের কমিটি গঠনের এক বছরের মধ্যেই সভাপতি ছফিউল্লাহ মিয়া পদত্যাগ করেন।

উৎসাহ–উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আজ রোববার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। এ সম্মেলনের মাধ্যমে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হতে চান।

এর আগে ২০১৩ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। দুই সদস্যের কমিটি গঠনের এক বছরের মধ্যেই সভাপতি ছফিউল্লাহ মিয়া পদত্যাগ করেন। পরে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হলেও নেতৃত্ব নিয়ে দলে দেখা দেয় বিভক্তি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নেতা–কর্মীদের মধ্যে বিভক্তি ও অন্তর্দ্বন্দ্ব বেড়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৯ বছর পর আজ ওই সম্মেলন হচ্ছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, আজ উপজেলার সরকারি হাজী আব্দুল জলিল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের। অন্যদের মধ্যে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সংসদ সদস্য আবু সাইদ আল মাহমুদ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এ ছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আল মামুন সরকার উপস্থিত থাকবেন।

এখন মতবিরোধের সুযোগ নেই। নেতারা যা করার, তা–ই করবেন। তবে বড় দলে স্বাভাবিক বিরোধ তো থাকেই। এখন পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে। আর কোনো বিরোধ থাকবে না।
ছফিউল্লাহ মিয়া, আহ্বায়ক, উপজেলা আওয়ামী লীগ

সম্মেলন ঘিরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক ছফিউল্লাহ মিয়া এবং সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আনিসুর রহমান। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হানিফ মুন্সী এবং উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান। উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু নাসের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। তবে নিজের প্রার্থিতার বিষয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।

* আজ সরকারি হাজী আব্দুল জলিল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সম্মেলন। * প্রধান অতিথি থাকার কথা রয়েছে মাহবুব উল আলম হানিফের।

আবু নাসের বলেন, ‘আমি প্রার্থী হয়নি। তবে দীর্ঘদিন ধরে দল করছি। দল আমাকে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদে যেখানে যোগ্য মনে করবে, সেখানেই থাকব।’ তবে একটি কারণে নিজের প্রার্থিতা জানান দেননি তিনি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১৩ জানুয়ারি হাজী আব্দুল জলিল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। ওই সময় উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক ছফিউল্লাহ মিয়াকে সভাপতি ও যুগ্ম আহ্বায়ক উপজেলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সীকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। তাঁদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁরা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে ব্যর্থ হন। এক বছরের মধ্যেই সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন ছফিউল্লাহ। পরে জেলা আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালের ১১ জানুয়ারি দুই সদস্যের উপজেলা কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে ছফিউল্লাহকে আহ্বায়ক ও হানিফ মুন্সীকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে। বর্তমানে ৬১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক নেতা জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ছফিউল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক হানিফ মুন্সী, আবু নাসেরসহ সব নেতা–কর্মীর মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে দীর্ঘ ৯ বছর ধরে কোন্দল, বিরোধ ও দ্বন্দ্ব রয়েছে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দ্বন্দ্ব এবং বিভক্তি আরও প্রকট আকার ধারণ করে। উপজেলার একাধিক ইউপির চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সীর বিপক্ষে রয়েছেন। নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ এতটাই প্রকট যে ২০১৭ সালে হানিফ মুন্সীর নেতৃত্বে উপজেলার নয়টির মধ্যে সাতটি ইউনিয়নে এবং ছফিউল্লাহর নেতৃত্বে আটটি ইউনিয়নে সম্মেলন হয়। ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল আশুগঞ্জের লালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে ছফিউল্লাহ ও হানিফ মুন্সীর পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন।

হানিফ মুন্সী বলেন, ‘দলে আমাদের মধ্যে কোনো কোন্দল বা দ্বন্দ নেই। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আমাদের নেতা একজনই; মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

ছফিউল্লাহ মিয়া বলেন, এখন মতবিরোধের সুযোগ নেই। নেতারা যা করার, তা–ই করবেন। তবে বড় দলে স্বাভাবিক বিরোধ তো থাকেই। এখন পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে। আর কোনো বিরোধ থাকবে না।