কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

অবশেষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ অনুষদে নতুন ডিন নিয়োগ

জটিলতা কাটিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচটি অনুষদে অবশেষে স্থায়ীভাবে পাঁচজন শিক্ষককে ডিন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় আইন, কমিটির রিপোর্ট এবং দায়েরকৃত সিভিল পিটিশনের ওপর আইন উপদেষ্টার মতামতের ভিত্তিতে উপাচার্য কর্তৃক এই নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

আজ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ নুরুল করিম চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ থেকে এই তথ্য জানানো হয়। বিকেলে মোহাম্মদ নুরুল করিম চৌধুরী প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডিন হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন, বিজ্ঞান অনুষদে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সজল চন্দ্র মজুমদার, কলা ও মানবিক অনুষদে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ শামসুজ্জামান মিলকী, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ রেজাউল করিম, প্রকৌশল অনুষদে সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহমুদুল হাছান এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এমদাদুল হক।

নিয়োগের দিন থেকে পরবর্তী দুই বছরের জন্য এই পাঁচজন শিক্ষক পাঁচটি অনুষদে ডিন হিসেবে দায়িত্ব¡পালন করবেন বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে গত ১৮ মে আইন অনুষদের ডিন হিসেবে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক বেলাল উদ্দিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র জানায়, এবারের ডিন নিয়োগে বিভাগের পালাক্রম অনুসরণ করা হয়েছে। তবে পূর্বে প্রশাসন কর্তৃক বিভিন্ন অনুষদে একাধিকবার বিভাগের পালাক্রমে ব্যত্যয় ঘটানোর ঘটনা ঘটায়, সেগুলোকে আমলে নিয়ে যে বিভাগ থেকে ব্যত্যয় ঘটেছে—সেই বিভাগ থেকেই শুরু করা হয়েছে এবারের ডিন নিয়োগের কার্যক্রম। বিভাগের পালাক্রমে যে বিভাগ এসেছে, সেখানে আবার শিক্ষকদের মধ্য থেকে জ্যৈষ্ঠতার ভিত্তিতে ডিন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে হলেও উক্ত বিভাগে পূর্বে ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে কিংবা কেউ আইনি জটিলতায় থাকলে তাদের পরবর্তীজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি—সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই ডিন নিয়োগ করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের বিতর্কের জন্ম না হয়।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, পূর্বে ডিন নিয়োগে একাধিকবার নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে। সেসব ব্যত্যয় আমলে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, দায়েরকৃত পিটিশন, আইন উপদেষ্টার মতামত, কমিটির রিপোর্টসহ সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে পাঁচটি অনুষদে ডিন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আর আইন অনুষদ নিয়ে কোনো সমস্যা না থাকায় সেটিতে আগেই অধ্যাপক বেলাল উদ্দিনকে ডিনের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এর আগে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে গত ১১ মে ছয়টি অনুষদে অন্তর্বর্তীকালীন ডিন নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক উপাচার্য হায়দার আলী প্রশাসনের বিরুদ্ধে। নতুন উপাচার্য এম এম শরীফুল করীম দায়িত্ব গ্রহণের দুই কর্মদিবসের মধ্যে অধ্যাপক হায়দার আলী প্রশাসনের দেওয়া সেই নিয়োগ বাতিল করেন। এরপর ২০ মে ফের বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি অনুষদে পুনরায় অন্তর্বর্তীকালীনভাবে ডিনের দায়িত্ব দেয় নতুন প্রশাসন। সেখানে বিজ্ঞান অনুষদে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক জাকির ছায়াদউল্লাহ খান, প্রকৌশল অনুষদে আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকারকে ডিনের দায়িত্ব সামলানোর ক্ষমতা দেওয়া হয়। ২০ মে-এর সেই অফিস আদেশে বলা হয়েছিল, আইন উপদেষ্টার মতামত না আসা পর্যন্ত পাঁচজন উপাচার্যের প্রতিনিধি হিসেবে ডিনের দায়িত্ব পালন করবেন।