বগুড়া মহাস্থান হাটে সবজি বেচাবিক্রি। সোমবার সকালে
বগুড়া মহাস্থান হাটে সবজি বেচাবিক্রি। সোমবার সকালে

ভোটের আলাপ

‘কত ভোট আইল–গেল, কৃষকের কষ্ট থ্যাকেই গেল’

সাতসকালে খেত থেকে টাটকা সবজি তুলে হাটে বিক্রি করতে এসেছেন কৃষক। হাটের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত—সবখানেই শীতের টাটকা সবজিতে ভরপুর। ক্রেতা-বিক্রেতা, আড়তদার ও পাইকারদের হাঁকডাকে সরগরম সবজির হাট। এই চিত্র দেশের অন্যতম বৃহৎ সবজির পাইকারি মোকাম মহাস্থান হাটে। এখান থেকে বিভিন্ন সবজি যাচ্ছে স্থানীয় খুচরা বাজারসহ ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে।

সোমবার মহাস্থান হাটে সবজি বিক্রি করতে আসা বেশ কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে বেচাবিক্রির ফাঁকে হয় ভোটের আলাপ। তাঁদের একটাই চাওয়া, আসছে নির্বাচনে যাঁরা ক্ষমতায় আসবেন, তাঁরা যেন কৃষকদের কথা ভাবেন। ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করেন। ৬০ শতাংশ জমিতে আলু চাষ করেছিলেন শিবগঞ্জ উপজেলার নাগরকান্দি গ্রামের কৃষক আবদুল হক (৭০)। গত সপ্তাহে ১ মণ সাদা জাতের হল্যান্ড আলু হাটে নিয়ে এসে দাম পেয়েছেন ৮০০ টাকা। সেই আলুর দাম পড়ে সোমবার ৪৫০ টাকায় নেমেছে। ভোটের আলাপ তুলতেই হতাশার সুর কৃষক আবদুল হকের কণ্ঠে।

হতাশ কণ্ঠে বলেন, ‘ভোট আসে, ভোট যায়। হামাকেরে মতো চাষাকেরে তকদির বদলায় না। হামাকেরে চাওয়া, ভোটটা ভালো হোক, ভোট লিয়ে মারামারি-গন্ডগোল না হোক। ভোটের পরে দ্যাশটা ভালো থাকুক, হামাকেরে মতো চাষাভুষা মানুষের কষ্টের দিন শ্যাষ হোক। সার-কীটনাশকের দাম কমে যাক, ফসলের ভালো দাম থাকুক। চাল-ডালসহ বাজার নিয়ন্ত্রণে থাক।’

বগুড়া মহাস্থান হাটে সবজি বেচাবিক্রি। সোমবার সকালে

বগুড়া সদরের কর্ণপুর গ্রামের কৃষক হাফিজার রহমান ৭০ শতাংশ জমিতে এ মৌসুমে গাজর চাষ করেছিলেন। খেত থেকে গাজর তুলে হাটে বিক্রি করতে এসে ঠিকমতো দাম না পেয়ে দিশাহারা অবস্থা তাঁর। ভোটের আলাপ তুলতেই হাফিজার রহমান হতাশ কণ্ঠে বলেন, ‘কষ্ট করে ফসল ফলাই। হাটে ব্যাচপার আসে ঠিকমতো দাম পাই না। ম্যালা দিন পর ভোট দিবার যামু। সরকারত যেই যাক, হামাকেরে মতো কৃষক কষ্ট থ্যাকে মুক্তি পাক।’ গাবতলী উপজেলার খুপি দড়িপাড়ার কৃষক শাহজাহান আলী বলেন, ‘কত ভোট আইল-গেল, কৃষকের কষ্ট থ্যাকেই গেল।’ মহাস্থান হাটে সবজি বিক্রি করতে আসা আরও অনেক কৃষকের সঙ্গে ভোট নিয়ে কথা বলে জানা গেল, এবারের জাতীয় নির্বাচনে যিনিই ক্ষমতায় আসুন, তাঁরা যেন কৃষকদের দুঃখ-কষ্টের কথা ভাবেন।

কথা টেনে নিয়ে হাটে শিম বিক্রি করতে আসা কৃষক মতিউল ইসলাম বললেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের চিয়ারমিনের ভোট করবার যায়্যা ৫০ কোটি খরচ করে। এমপির ইলেকশনে আরও কয়েক গুণ। এই টেকা তুলতেই পাঁচ বছর শ্যাষ। জনগণের কাজ করবি কীভাবে?’ শিবগঞ্জ উপজেলার উত্তর শ্যামপুর গ্রামের কৃষক আবু হাসান বলেন, ‘যেই দল সরকারত য্যায়া হামাকেরে ফসলের ঠিকমতো দাম দিবি, ভোট হামরা সেই দলকেই দিমু।’

শিবগঞ্জ উপজেলার ইনাতপুর গ্রামের কৃষক আবু হাসান বলেন, ‘ম্যালা দিন পর ভোটের মতো ভোট হচ্ছে। ভোটত যে দল জিতপি, সেই দলের কাচে হামরা অনুদান চাই না। বেশি করে কলকারখানা চাই। হামরা যে আলু-সবজি ফলাই সেইটা যেন কারখানায় কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হয়। এতে হামাকেরে উপকার হবি।’