
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বছরজুড়েই থাকে পর্যটকের ভিড়। সাগরে গোসল করতে নেমে দেশ-বিদেশ থেকে আসা এসব পর্যটকের কেউ কেউ ভেসে যান স্রোতের টানে, কেউ আবার আটকে পড়েন চোরাবালিতে। পর্যটকদের এমন বিপদে উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনা করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সি-সেফ লাইফগার্ড। তবে তহবিলসংকটের মুখে সম্প্রতি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয় প্রতিষ্ঠানটির সেবা। এমন পরিস্থিতিতে আগামী তিন মাস লাইফগার্ডের সেবা চালু রাখতে অর্থায়ন করছে বাণিজ্যিক ব্যাংক এনসিসি।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সি-সেফ লাইফগার্ড সেবা দেয় সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশের (সিআইপিআরবি) হয়ে। গতকাল শনিবার বিকেলে এনসিসি ব্যাংকের সঙ্গে সিআইপিআরবির চুক্তি হয়। চুক্তির আওতায় আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সি-সেফ লাইফগার্ডের সেবা চালু রাখতে অর্থায়ন করবে এনসিসি ব্যাংক।
সি-সেফ লাইফগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক সংস্থা রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউটের (আরএনএলআই) অর্থায়নে সি-সেফ লাইফগার্ডের সেবা কার্যক্রম শুরু হয়। এর পর থেকে লাইফগার্ডের সদস্যরা কক্সবাজার সৈকতের কলাতলী থেকে সুগন্ধা হয়ে লাবণি পয়েন্ট পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার সৈকতে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৫৪ জনকে সাগর থেকে জীবিত উদ্ধার করেছে লাইফগার্ড। এ ছাড়া স্রোতের টানে ভেসে যাওয়া অন্তত ৬৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
সি-সেফ লাইফগার্ডের হয়ে সৈকতে নিয়োজিত রয়েছেন ২৭ জন। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে জনবল রয়েছে ৩৫ জন। সবার বেতন-ভাতা বাবদ মাসে লাগে ১৪ লাখ টাকা লাগে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।
সিআইপিআরবির পরিচালক ইমরান উল্লাহ সরকার প্রথম আলোকে বলেন, তহবিলসংকটের কারণে কক্সবাজার সৈকতে লাইফগার্ড সেবা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এনসিসি ব্যাংক পাশে দাঁড়ানোর ফলে এই সেবা কার্যক্রম আপাতত তিন মাসের জন্য চালু রাখা যাবে।
সি-সেফ লাইফগার্ডের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, তহবিলসংকট প্রকট হয় গত ১ অক্টোবর। এর পর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। আগামী তিন মাস এনসিসি ব্যাংক অর্থায়ন করবে। ব্যাংকটি অর্থায়ন করায় লাইফগার্ডের কর্মীদের চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা যেমন কেটেছে, তেমনি পর্যটকদেরও নিরাপত্তাঝুঁকি কমেছে।
গতকাল বিকেলে কক্সবাজারের ইনানী সৈকতের একটি তারকা হোটেল এনসিসি ব্যাংক ও সিআইপিআরবির চুক্তি হয়। এ সময় সিআইপিআরবির পরিচালক (স্বাস্থ্য) মোহাম্মদ সেলিম চৌধুরী, পরিচালক (প্রশাসন) ইমরান উল্লাহ সরকার, এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সামশুল আরেফিন, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম খুরশেদ আলম, উপব্যবস্থাপনা পরিচালাক মো. জাকির আনাম উপস্থিত ছিলেন।