
সুনামগঞ্জে ভোটের পরিবেশ নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন একাধিক ভোটার। তাঁদের দাবি, গত কয়েকটি নির্বাচনে ভোটের পরিবেশ ছিল না। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বাচ্ছন্দ্যে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা একটার দিকে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের সরকারি জুবিলী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটদানের পর মাবিয়া আকবর হাসান (৫০) নামের এক ভোটার বলেন, ‘গত তিনটা ইলেকশনে ভোটের আমেজ আছিল না। সব একতরফা ঘটছে। আমরাও ভোট দিছি না। ইবার ভোট দিয়া শান্তি পাইলাম, ভোটের আমেজ ফিরছে। মানুষ খুশি।’
মাবিয়া আকবর হাসান সুনামগঞ্জ পৌর শহরের উপত্যকা এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় আইটি ব্যবসায়ী। আলাপে জানা যায়, শুধু তিনি নন, তাঁর পরিবারের আরও পাঁচজন ভোটার গত তিনটি নির্বাচনে ভোট দেননি। এবার পরিবারের ছয়জনই ভোট দিয়েছেন। তাঁর পরিবারের নতুন ভোটার কলেজপড়ুয়া ভাতিজি উজমা আনিসা। তিনি দুই ছোট মেয়েকেও সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রে আসেন।
আকবর হাসান জানান, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে তিনি এবং তাঁর পরিবারের অন্যরা ভোট দেননি। ওই সময় ভোটের পরিবেশ ছিল না এবং একতরফা নির্বাচন হয়েছে। এবার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে নতুন পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের উপস্থিতি দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে ভোট একটা উৎসব। গত তিনটি নির্বাচনে সেটা ছিল না। মানুষের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ছিল। এখন সেটা কাটছে।’
ভোট দিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন উজমা আনিসাও। তিনি বলেন, ‘প্রথম ভোট দিয়েছি, ভালো লাগছে। কেন্দ্রের পরিবেশও ভালো।’
এবার মানুষ উৎসবের আমেজে ভোট দিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) বিএনপির প্রার্থী মো. নুরুল ইসলাম। আজ সকালে শহরের ষোলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটদানের পর তিনি বলেন, মানুষ গত ১৭ বছর ভোট দিতে পারেনি।
সুনামগঞ্জে সকালে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও দুপুরের পর তা বেড়েছে। সরকারি জুবিলী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ৫৬৫ জন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন ৬৭৪ জন। কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. নুরুজ আলী জানান, সকালে উপস্থিতি কম ছিল, তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার বাড়ছে।
কেন্দ্রটির ভোটার আইনজীবী অলক ঘোষ চৌধুরী বলেন, ‘শীতের সকাল হওয়ায় শহরের মানুষ ধীরে ধীরে কেন্দ্রে আসছেন। বিকেলে উপস্থিতি আরও বাড়বে।’
শহরের রাজগোবিন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৩০৮ জন। সকাল ১০টা পর্যন্ত আড়াই ঘণ্টায় ভোট পড়ে ১৮৭টি। দুপুর ১২টা পর্যন্ত পড়ে ৬০৪টি ভোট। এ কেন্দ্রে সোমপাড়া, মধ্যবাজার, রায়পাড়া ও পশ্চিমবাজার এলাকার ভোটাররা ভোট দেন। কেন্দ্রের ভোটার ইকবাল হোসেন বলেন, ‘সকালে ঘরের নারীরা এসে ভোট দিয়েছেন। এখন পুরুষেরা আসছেন।’
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ বলেন, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। ভোটাররা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে ২৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানান নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। সকাল ১০টা পর্যন্ত ভোট পড়েছিল ১০ শতাংশের বেশি। তিনি বলেন, ভোটার উপস্থিতি ভালো। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হবে।