কুড়িগ্রামের চিলমারীতে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ভালো কাজের বিনিময়ে মিলছে ইফতারি-খাবার। গতকাল সোমবার বিকেলে রমনা রেলস্টেশন এলাকায়
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ভালো কাজের বিনিময়ে মিলছে ইফতারি-খাবার। গতকাল সোমবার বিকেলে রমনা রেলস্টেশন এলাকায়

কুড়িগ্রামে ভালো কাজের বিনিময়ে মিলছে ইফতারি-রাতের খাবার

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে মাসব্যাপী ব্যতিক্রমধর্মী এক মানবিক উদ্যোগ প্রশংসা কুড়াচ্ছে। দিনে অন্তত একটি ভালো কাজ করলেই মিলছে বিনা মূল্যে ইফতারি ও রাতের খাবার। রাজধানীভিত্তিক সংগঠন ‘ভালো কাজের হোটেল’ রমজানজুড়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সংগঠনটি জানিয়েছে, চিলমারিতে প্রতিদিন প্রায় ৫০০–৬০০ জন অসহায়, ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ইফতারি বিতরণ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি উপজেলার রমনা রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ইফতারি বিতরণকে কেন্দ্র করে নারী-পুরুষ ও শিশুদের ভিড়। কেউ দিনমজুর, কেউ রিকশাচালক, আবার কেউ রেলওয়ে বস্তির বাসিন্দা। ইফতারি নিতে আসা সবার মুখে একই কথা ‘আজ একটি ভালো কাজ করেছি।’

সংগঠনের সিনিয়র স্বেচ্ছাসেবক নুর আলম বলেন, প্রতিদিন প্রায় ৫০০–৬০০ মানুষের জন্য ইফতারির আয়োজন করা হয়। একেক দিন একেক ধরনের মেন্যু থাকে। বিরিয়ানি, মুরগির রোস্ট, খেজুর ও শরবত দেওয়া হয়। শর্ত একটাই, দিনে অন্তত একটি ভালো কাজ করতে হবে। তাহলেই মিলছে খাবার।

নুর আলম জানান, ঢাকাভিত্তিক সংগঠন ‘ইয়ুথ ফর বাংলাদেশ’-এর শাখা হিসেবে ‘ভালো কাজের হোটেল’ পরিচালিত হচ্ছে। সংগঠনটির চার হাজার ১০০ সদস্য প্রতিদিন ১০ টাকা করে অনুদান দেন। তাঁদের অর্থায়নেই কুড়িগ্রামসহ দেশের চারটি স্থানে এ কার্যক্রম চলছে। ২০১৯ সাল থেকে সামাজিক সচেতনতা ও মানবিক কাজের লক্ষ্যে কর্মসূচিটি পরিচালিত হচ্ছে।

ইফতারি নিতে আসা খাদিজা বেগম বলেন, তিনি রমনা রেলওয়ে বস্তির বাসিন্দা। বাড়িতে ভালো খাবার জোটে না। এখানে এসে অন্তত একবেলা ভালোভাবে খেতে পারেন। রোজার দিনে এটি বড় সহায়তা।

রমনা ব্যাপারীপাড়া থেকে আসা ছালমা বেগম বলেন, এক অসুস্থ বৃদ্ধ মানুষ বিছানা থেকে উঠতে পারছিলেন না। তাঁকে গোসল করিয়ে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন। এমন ছোট ছোট মানবিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবেই তিনি ইফতারি পেয়েছেন।

স্থানীয় যুবক সাব্বির বলেন, প্রতিদিন কয়েক শ মানুষ এখানে আসেন। একটি ভালো কাজের বিনিময়ে খাবার দেওয়া হচ্ছে—এটি সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

সংগঠনের আরেক স্বেচ্ছাসেবক লিমন জানান, সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় বর্তমানে কুড়িগ্রাম, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও মাদারীপুরে এ কার্যক্রম চলছে। পুরো রমজান মাসজুড়ে ইফতারি বিতরণ অব্যাহত থাকবে।