
সিলেটের মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করা হয় ২০০৩ সালের ৩ মে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা অর্থনীতিবিদ তৌফিক রহমান চৌধুরী। সিলেট শহরতলির বটেশ্বর এলাকায় ৯ দশমিক ৬ একর জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয়টির নিজস্ব ক্যাম্পাস রয়েছে। এখন শিক্ষার্থী ৪ হাজার ৩১০ জন। স্থায়ী শিক্ষক আছেন ১২৭ জন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান তানভীর রহমান চৌধুরী। সিলেটে উচ্চশিক্ষার প্রসার নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন প্রথম আলোর সিলেট কার্যালয়ের নিজস্ব প্রতিবেদক সুমনকুমার দাশ।
সিলেট অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ গত কয়েক বছরে বেড়েছে, বিষয়টা হচ্ছে, মান কেমন?
তানভীর রহমান চৌধুরী: গত দুই দশকে সিলেটে উচ্চশিক্ষার সুযোগ অনেক বেড়েছে। একটা সময় উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে হতাশা থাকলেও ধীরে ধীরে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। সিলেটের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিক থেকে এখন অগ্রসরমাণ। তবে এটাও সত্য, গবেষণার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছানো যায়নি। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান হিসেবে আমি বলতে পারি, সিলেটের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ এখন মানসম্পন্ন শিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্ব দিচ্ছে।
মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি অন্যান্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা কেন?
তানভীর রহমান চৌধুরী: আমরা কেবল ডিগ্রি দেওয়ার প্রতিষ্ঠান হতে চাই না। আমরা চাই এখানকার শিক্ষার্থীরা যেন জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিকতা ও নেতৃত্বের সমন্বয়ে ভবিষ্যৎ সমাজ, রাষ্ট্র তথা বিশ্বের জন্য সম্পদ হতে পারে। আধুনিক ও ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছি আমরা।
সিলেট বিভাগে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে উপাচার্য, সহ–উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ রয়েছেন। আমরা সময়ের সঙ্গে চলার চেষ্টা করি। সে জন্যই বর্তমান যুগের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন ও সম্ভাবনাময় বিষয়গুলোর একটি ডেটা সায়েন্স নিয়ে প্রোগ্রাম চালু করেছি। সিলেট অঞ্চলের প্রথম ও একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ডেটা সায়েন্সে পূর্ণাঙ্গ স্নাতক (সম্মান) প্রোগ্রাম চালু করেছি আমরা। চার বছর মেয়াদি এ প্রোগ্রাম শেষ করার পর শিক্ষার্থীরা ডেটা সায়েন্টিস্ট, ডেটা অ্যানালিস্ট, মেশিন লার্নিং ইঞ্জিনিয়ার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গবেষক এবং ডেটা ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দেশ-বিদেশে ক্যারিয়ার গড়তে পারবে।
এ ছাড়া সিলেটের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতেই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ও অর্থনীতি বিষয় চালু আছে। এর বাইরে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বিবিএ, ল অ্যান্ড জাস্টিস, ইংরেজি, এমবিএসহ অন্যান্য প্রোগ্রাম তো রয়েছেই। এককথায় শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের জন্য দক্ষ করে গড়ে তুলতে সব ধরনের উদ্যোগই আমরা নিচ্ছি। একটি ভালো বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ভালো গ্র্যাজুয়েট তৈরি করে না; নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করে, ভালো মানুষ তৈরি করে। আমরা সেই কাজটি নিরলসভাবে করে যাচ্ছি।
শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নে আপনারা কী করছেন?
তানভীর রহমান চৌধুরী: আমরা বাজেটে গবেষণায় বরাদ্দ রাখছি, যা প্রতিবছর বাড়ানো হচ্ছে। প্রতিটি বিভাগে নিয়মিত সেমিনার, কর্মশালা ও কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়। আধুনিক ল্যাব ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরি রয়েছে আমাদের। শিক্ষক প্রশিক্ষণ, পাঠ্যক্রমের আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিকীকরণ, সেলফ-অ্যাসেসমেন্টের ওপর এখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ডিগ্রি রিভিউ কমিটি। শিক্ষকদের পাঠদান নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়মিত মূল্যায়ন বা ফিডব্যাক নেওয়া হয়।
সহশিক্ষা কার্যক্রমকে কতটা উৎসাহিত করেন?
তানভীর রহমান চৌধুরী: সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের জন্য মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিকে দেশের মধ্যে মডেল হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন। সহশিক্ষা কার্যক্রমকে শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করি বলেই আমরা প্রাণবন্ত ক্যাম্পাস সংস্কৃতি গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল খেলার মাঠ, বিভিন্ন চত্বর ও উন্মুক্ত পরিসরগুলো সারা বছরই শিক্ষার্থীদের নানা আয়োজনে প্রাণবন্ত থাকে। প্রতিটি বিভাগসহ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অনেকগুলো ক্লাব রয়েছে।