নিরাপদ কর্মস্থলের দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তাদের মানববন্ধন, কাল কর্মবিরতি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তাদের ওপর হামলা ও হেনস্তার প্রতিবাদ এবং নিরাপদ কর্মস্থলের দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। আজ বুধবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে ‘বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার সমিতির’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। একই দাবিতে তাঁরা আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন।

কর্মসূচিতে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি মহল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অফিস চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ও অফিস শেষে বাড়ি ফেরার পথে কর্মকর্তাদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা হচ্ছে। ‘মব’ সৃষ্টির মাধ্যমে কর্মকর্তাদের মানসিক ও শারীরিকভাবে হয়রানি করার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানান তাঁরা।

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিষদ শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেকের নিরাপদ কর্মস্থল ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের অধিকার আছে। আমরা কখনোই কোনো অপরাধীর পক্ষে কথা বলব না এবং কোনো অপরাধীকে সমর্থন করব না। কিন্তু যাঁরা নিরপরাধ, তাঁদের আমরা কোনোভাবেই হেনস্তা হতে দেব না।’

অফিসার সমিতির সদস্য ও শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের পরিচালক রোকসানা বেগম (টুকটুকি) বলেন, ‘আমরা কিন্তু কারও কাছে জিম্মি নয়। আমরা এখানে চাকরি করতে এসেছি। আমি স্পষ্ট ভাষায় প্রশাসনকে বলতে চাই, আপনারা যদি আমাদের দায়িত্ব নিতে না পারেন, আমাদের লিখে দেন। আমরা চলে যাব। তা–ও কারও দ্বারা লাঞ্ছিত হতে দেব না। আপনারা যদি সঠিক ব্যবস্থা না নেন, এরপরে আমরা কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলব।’

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অফিসার সমিতি জানায়, অফিস চলাকালীন ও অফিস থেকে ফেরার পথে কর্মকর্তাদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা সংঘটিত হচ্ছে। এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বারবার জানালেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। প্রশাসনের এই ‘নীরবতা’ অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের আরও উৎসাহিত করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

গত রোববার ও সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী দুই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রোববার অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে বিনোদপুর বাজার থেকে রাজশাহী নগরের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ্ মখ্দুম হলের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আহসান হাবীবকে গ্রেপ্তার করে মতিহার থানা–পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান সময়ের ঘটনায় বোয়ালিয়া থানায় একাধিক মামলা আছে।

অন্যদিকে রাজশাহীর পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শেরেবাংলা হলের ডেপুটি রেজিস্ট্রার হানিফ মো. পলাশকে নগরের মেহেরচণ্ডী কড়াইতলা মোড়ে একদল লোক আটক করে পুলিশের কাছে তুলে দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে থানায় নিয়ে যায়। তাঁকে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।