
রংপুরের তারাগঞ্জে পিটুনিতে নিহত রূপলাল দাসের মেয়ের বিয়ের জন্য এক লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবেল রানা রূপলালের স্ত্রী ভারতী রানী ও তাঁর সন্তানদের হাতে চেক তুলে দেন।
এ সময় ইউএনও রুবেল রানা জানান, ১০ আগস্ট প্রথম আলোয় ‘এ্যালা মুই কেমন করি বাঁচি, কার কাছোত বিচার চাইম’ শিরোনামে খবরটি তাঁর নজরে আসে। এরপর খোঁজখবর নিয়ে রূপলালের মেয়ের বিয়ের জন্য উপজেলা পরিষদের তহবিল থেকে এক লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়। পরিবারটির প্রতি অন্যান্য সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
চেক হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে রূপলালের পরিবারকে তাঁর সৎকারের ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল বুধবার আরও ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের ঘনিরাপুর এলাকার মুচি রূপলাল দাসের মেয়ে নূপুর রানীর বিয়ের কথাবার্তা চলছিল। গত রোববার বিয়ের দিন–তারিখ ঠিক করার কথা ছিল। এ জন্য মিঠাপুকুর থেকে নিজের ভ্যান চালিয়ের রূপলালের ভাগনির স্বামী প্রদীপ লাল শনিবার ঘনিরামপুর গ্রামে রূপলালের বাড়ির দিকে রওনা হন। কিন্তু গ্রামের ভেতর দিয়ে রাস্তা না চেনায় প্রদীপ লাল কাজীরহাট এলাকায় এসে রূপলালকে ফোন করেন। সেখানে রূপলাল গিয়ে দুজনে ভ্যান চড়ে ঘনিরামপুর গ্রামের দিকে রওনা হন। শনিবার রাত ৯টার দিকে তারাগঞ্জ-কাজীরহাট সড়কের বটতলা এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন যুবক তাঁদের চোর সন্দেহে আটক করেন। প্রদীপ লালের ভ্যানে থাকা বস্তা থেকে কয়েকটি প্লাস্টিকের ক্যান ও ওষুধ বের করেন তাঁরা। একপর্যায়ে রূপলাল ও প্রদীপ লালকে পিটুনি দেন ওই যুবকেরা। এতে দুজনই মারা যান।
এ ঘটনায় রূপলাল দাসের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৫০০-৭০০ জনকে আসামি করে তারাগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ ভিডিও দেখে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।