
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে বিয়ার ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে উপজেলা শ্রমিক দলের সহসভাপতি সুমন মোল্লাকে দলীয় সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর বিয়ার ব্যবসার কথা স্বীকার করার কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো। গতকাল বুধবার গোয়ালন্দ উপজেলা শ্রমিক দলের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া সংগঠনবিরোধী ও নৈতিক স্থলনজনিত কাজে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গতকাল রাতে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদ সরদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফারুক দেওয়ান ও সদস্যসচিব সানোয়ার আহমেদ স্বাক্ষরিত এ নোটিশে তাঁকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ছরোয়ার মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মিয়া স্বাক্ষরিত অব্যাহতিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সুমন মোল্লা দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে বিয়ার ব্যবসার কথা নিজ মুখে স্বীকার করেছেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সাধারণ জনগণ ও দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং দলের সম্মানহানি ঘটে। এ পরিস্থিতিতে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও সম্মানহানির দায়ে তাঁকে সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সুমন মোল্লা বলেন, ‘এক আইনজীবীর সঙ্গে কথার পরিপ্রেক্ষিতে বিয়ার ব্যবসার কথা বলেছিলাম। যৌনপল্লিতে বিয়ার কেন, কোনো ধরনের মাদকের সঙ্গে জড়িত নই।’ উপজেলার কমিটির ওই অব্যাহতির আদেশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি উপজেলা পর্যায়ের নেতা। উপজেলার নেতা হয়ে আরেক উপজেলার নেতাকে কি বহিষ্কার করতে পারে? সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমি এই বিষয়ে আর কোনো কথা বলব না। এমনকি আমি আর রাজনীতিই করব না।’
এ সম্পর্কে উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ছরোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার রাতে দৌলতদিয়া ঘাট শ্রমিক দল কার্যালয়ে জরুরি সভা আহ্বান করা হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সুমন মোল্লাকে দলীয় সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া এবং স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য জেলা কমিটির কাছে সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এর আগে সুমন মোল্লাকে জড়িয়ে দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে মাদক ব্যবসা ও বাড়ি দখলের অভিযোগ তুলে মকিম মন্ডল নামের এক আইনজীবী তাঁর ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেন। পরে ওই আইনজীবীর সঙ্গে সুমন মোল্লার প্রায় সাত মিনিটের কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কথোপকথনে তিনি যৌনপল্লিতে বিয়ার ব্যবসার কথা স্বীকার করেন এবং তাঁর সঙ্গে আরও তিনজন জড়িত থাকার কথা বলেন। তবে তাঁদের নাম প্রকাশ করেননি।
এদিকে বিয়ার ব্যবসায় জড়িত তিনজনের মধ্যে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদ সরদারের নামও উঠে আসে। এ ছাড়া জামাল ও ফজল নামের আরও দুজনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রাতে উপজেলা যুবদল কার্যালয়ে জরুরি সভা করে জাহিদের বিরুদ্ধে সংগঠনবিরোধী ও নৈতিক স্থলনজনিত কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাঁকে আগামী ৩ মে দুপুর ১২টার মধ্যে সশরীর দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।