
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অভিযান চালিয়ে শওকত আলী নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী। ৭ জানুয়ারি এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, অবৈধ অস্ত্রসহ শওকত আলীর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এরপর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিন গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শওকত আলীর অস্ত্র হাতে কয়েকটি ছবিও সংযুক্ত করা হয়।
শওকত আলীর দাবি, অস্ত্রসহ তাঁর যে ছবি দেওয়া হয়েছে, তা সম্পাদিত। এ নিয়ে গত ১২ নভেম্বর রাঙ্গুনিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শওকত আলী। সাধারণ ডায়েরিতে শওকত উল্লেখ করেন, বিভিন্ন নামের ফেসবুক আইডি থেকে তাঁর পুরোনো ছবি এআই দিয়ে সম্পাদনা করে ছড়ানো হচ্ছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ মাহফুজের রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
শওকত আলীর জিডির প্রসঙ্গে এসআই মোহাম্মদ মাহফুজের রহমানে বলেন, ‘আমরা সাইবার ক্রাইম বিভাগে আবেদন করেছি। এখনো সেখান থেকে প্রতিবেদন আসেনি। এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রেপ্তারের বিষয়টা যৌথ বাহিনীর বিষয়।’
গত সোমবার আদালত থেকে জামিন পান শওকত আলী। আজ বুধবার বেলা একটার দিকে তিনি বলেন, ‘আমি প্রবাসে থাকি। গত বছর কোরবানির ঈদের পর দেশে আসি। একটি দলের প্রতি সমর্থন আছে, তবে কোনো দলের সঙ্গে বৈরিতা নেই। তবে কয়েক মাস ধরে স্থানীয় কিছু দ্বন্দ্বের কারণে আমার পেছনে লাগে মানুষ। এর মধ্যে এআই দিয়ে আমার পুরোনো ছবি এডিট করে ফেসবুকে ছড়ানো হয়। এ নিয়ে থানায় জিডিও করেছিলাম আমি। সেনাবাহিনী ক্যাম্পেও জানিয়েছিলাম।’
শওকত আলীর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ঘুরে দেখা গেছে, শওকত আলী নিজেকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। এআই দিয়ে সম্পাদনা করা একটি ছবি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক ও প্রশ্ন উঠলে প্রথম আলোর ফ্যাক্ট চেকে দেখা যায়, যৌথ বাহিনীর পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে অস্ত্রসহ ছবিটি। সম্পাদনা করে ছবিটিতে অস্ত্র যুক্ত করা হয়েছে। ছড়িয়ে পড়া আরও একটি ছবিতেও একই ধরনের সম্পাদনা করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার আজ সকালে প্রথম আলো অনলাইন সংস্করণের প্রতিবেদন থেকে ছবিটি অপসারণ করা হয়।
৭ জানুয়ারি যৌথ বাহিনীর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড-সংযুক্ত টাস্কফোর্সের যৌথ অভিযানে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা কদমতলীর চারাবটতলা এলাকা থেকে শওকত আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বিভিন্ন স্থানে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেন। বালুমহালে অবৈধ অস্ত্রের মাধ্যমে আধিপত্য বিস্তারের জন্য তিনি টাকার বিনিময়ে কাজ করতেন এবং নিয়মিত চাঁদা আদায় করতেন।
শওকত আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বালুমহাল ও স্থানীয় চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার কারণে আমার নামে এসব ছড়ানো হয়েছে। বালুর ট্রাকগুলোর কারণে যানজট হয়, আমি এটির প্রতিবাদ করি। আমার বাড়ির পাশে ছোট সড়কে বালুর ট্রাক ঢোকায় সেটি নিয়ে কিছু দ্বন্দ্ব হয় প্রতিবেশীদের সঙ্গে। এটি পুলিশ এসে মিটমাট করে।’ তাঁর ভাষ্য, এ ঘটনায় মারামারির একটি মামলা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। সেটিও জামিনের জন্য আছে আদালতে।
শওকত আলীর বিরুদ্ধে রাঙ্গুনিয়া থানায় দুটি হত্যা মামলা রয়েছে বলে সে সময় জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অস্ত্র হাতে দিয়ে সম্পাদিত ছবি পাঠানো প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের মেজর তানভীর মেহেদী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছবিটা যে সম্পাদিত, এটি কীভাবে প্রমাণ করবেন। আমাদের কাছে তথ্য ছিল তিনি অস্ত্র হাতে শোডাউন করেন। তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল। তাঁর কাছে অস্ত্র আছে। তাঁর নামে অস্ত্রের মামলাসহ অনেক মামলা আছে রাঙ্গুনিয়ায়।’
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, তাঁকে ৭ জানুয়ারি রাতে আদালতে পাঠানো হয় ৫৪ ধারায় সন্দেহভাজন হিসেবে। মামলার প্রসঙ্গে জানতে রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরমান হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা ছিল না। যেহেতু যৌথ বাহিনী তাঁর ব্যাপারে নেতিবাচক তথ্য দিয়েছে, তাই সন্দেহ থাকে। এ কারণে তাঁকে ৫৪ ধারায় সন্দেহভাজন হিসেবে আদালতে সোপর্দ করা হয়।