
রাজবাড়ীতে কলেজছাত্র চৌধুরী ফুয়াদ হাসান (১৯) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামির বাড়িতে ভাঙচুর করেছেন ও আগুন দিয়েছে একদল লোক। একই সময় হত্যাকাণ্ডের ইন্ধনদাতা হিসেবে সন্দেহভাজন একজনের বাড়িতেও আগুন দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আজ শনিবার দুপুরে উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর ও সমেশপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সদর থানা-পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশ লাইনস থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফয়জুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বেলা দেড়টার দিকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে চলে আসেন। এখন পর্যন্ত তাঁরা ঘটনাস্থলে আছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় লেগেছে। স্থানীয় বিক্ষুব্ধ লোকজন গ্রেপ্তার তিন আসামি ও ইন্ধনদাতার বাড়ি ভাঙচুর ও আগুন দিয়েছে। আসামিদের দুই স্বজনের বাড়িও ভাঙচুর করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।
নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার দাদসী ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে বাড়ির অদূরে একটি ডোবা থেকে ফুয়াদের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ফুয়াদ রাজবাড়ী শহরের একটি বেসরকারি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ঘটনায় ফুয়াদের বাবা ফরহাদ চৌধুরী বাদী হয়ে ওই দিন রাতেই সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলার পর আজ ভোররাতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁরা হলেন উপজেলার বক্তারপুর গ্রামের দুলাল সরদারের ছেলে ফিরোজ সরদার ওরফে বাবু (৩৪), গণি সরদারের ছেলে রিয়াজ সরদার (২৩) এবং সমেশপুর গ্রামের সিদ্দিক মণ্ডলের ছেলে মো. শরীফ মণ্ডল (২৭)। পরে দুপুরে এ নিয়ে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন। তার কিছুক্ষণ পর তাঁদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়।
পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন বলেন, জমিজমা নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে চৌধুরী ফুয়াদ হাসানকে ডেকে নিয়ে গামছা ও টি-শার্ট দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। পরে মরদেহ পানিতে ভেসে ওঠা ঠেকাতে পেট কেটে বস্তাবন্দী করে ডোবায় ফেলে রাখা হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত টি-শার্ট, গামছা ও ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মাদকাসক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের মূল ইন্ধনদাতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।