
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবক ভারতে চলে যান। পরিবারের সদস্যরা তাঁর কোনো খোঁজ না পেয়ে এলাকায় মাইকিং করেন। এরপর ভারতীয় একটি ফেসবুক আইডিতে ওই যুবকের ছবিসহ পোস্ট দেখে পরিবার। এরপর দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ওই যুবককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
ওই যুবকের নাম মো. বকুল মণ্ডল (২৫)। তিনি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী চিলমারী ইউনিয়নের মরারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। পরিবার জানিয়েছে, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সীমান্তের মেইন পিলার ১৫৭ /২-এস–এর কাছে বিজিবি–বিএসএফের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বকুলকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে বিএসএফ।
বিজিবি জানায়, প্রায় এক সপ্তাহ আগে বকুল বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান না পেয়ে গত শুক্রবার মাইকিং করে নিখোঁজ সংবাদ প্রচার করে। পরে ফেসবুকে একটি ভারতীয় আইডিতে দেখা যায়, বকুল ভারতের কলকাতায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির দায়িত্বপ্রাপ্ত চিলমারী বিওপিকে জানায়। এরপর বিজিবি দ্রুত বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে। বিএসএফ সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডির মালিকের সহায়তায় বকুলকে গতকাল শনিবার আটক করে এবং রাতেই পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।
পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন চিলমারী কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মো. মোশারফ হোসেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে আরও সাতজন বিজিবি সদস্য উপস্থিত ছিলেন। অপর দিকে ভারতের ১৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চরভদ্রা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার এসআই নীতীন কুমারের নেতৃত্বে সাতজন বিএসএফ সদস্য অংশ নেন।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ৪৭ ব্যাটালিয়ন বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন ওই যুবককে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আজ রোববার সকালে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে দ্রুত বিজিবিকে জানাতে স্থানীয় ব্যক্তিদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।