সুরুজ কাজী
সুরুজ কাজী

রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধে গিয়ে মাদারীপুরের যুবক নিহত

রাশিয়ার সেনাবাহিনীর হয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়েছিলেন মাদারীপুরের যুবক সুরুজ কাজী (৩৫)। গত সোমবার প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয়েছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সুরুজের পরিবার তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

নিহত সুরুজ মাদারীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ খাগড়াছড়া এলাকার শাহাবুদ্দিন কাজীর ছেলে। তাঁর মৃত্যুর খবরে বাড়িতে স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত ব্যক্তির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উন্নত জীবনের আশায় বাংলাদেশি এক দালালের মাধ্যমে ইউরোপ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সুরুজ। অনেক চেষ্টার পরও ইউরোপের ভিসা না পেয়ে এক এজেন্সির মাধ্যমে তিনি রাশিয়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আট মাস আগে তিনি বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ায় যান। সেখানে স্বাভাবিক কাজে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশি দালালের খপ্পরে পড়ে তিনি রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। সম্প্রতি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে নিহত হন সুরুজ। প্রথমে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি গোপন রাখা হলেও রাশিয়ায় অবস্থানরত দুই বাংলাদেশি প্রবাসী যুবক মুঠোফোনে সুরুজের পরিবারকে বিষয়টি জানান।

সুরুজের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই তাঁর বাড়িতে স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর ভিড় বাড়তে থাকে। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে বাড়ির চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সুরুজ ছিলেন সবার বড়। পরিবারের বড় ছেলেকে হারিয়ে অনেকটা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বাবা শাহাবুদ্দিন কাজী। তিনি বলেন, ‘আমার বড় ছেলে আর নাই। এই কথা শোনার থিকা আল্লায় আমারে নিয়া গেলে ভালো হইতো। হায়রে দুনিয়া। বিদাশে গেল ভালো থাকার লিগা, এখন সব শেষ হইয়া গেল। শেষবারের মতো ছেলের মুখটা একবার দেখতে চাই। সরকারের কাছে দাবি, আমার ছেলের লাশটা যেন দেশে এনে দেন এবং আমাদের পরিবারের জন্য সাহায্য সহযোগিতা করেন।’

তিন মাস আগে সুরুজের দুই বছর বয়সী ছেলে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। প্রথমে একমাত্র সন্তান ও পরে স্বামীকে হারিয়ে পাগলপ্রায় স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার (২২)। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার স্বামীও নাই, সন্তানও নাই। কারে আগলাই বাঁচুম আমি। কে দেখবো আমারে? আল্লাহ গো তুমি আমারেও লইয়া যাও।’

নিহত ব্যক্তির নিকটাত্মীয় রহমত মিয়া বলেন, ‘সংসারের হাল ধরতে বিদেশে গিয়েছিল সুরুজ। কে জানত যুদ্ধেই তার প্রাণ চলে যাবে। তার এমন মৃত্যু আমরা কোনোভাবেই মানতে পারছি না। আমরা তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাই।’

মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে লাশ দেশে আনার জন্য সহযোগিতা করা হবে। এ ছাড়া শোকাহত পরিবারটির পাশে উপজেলা প্রশাসন সব সময় থাকবে।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে মাদারীপুরের এক যুবকের মৃত্যুর খবর স্বজনদের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি। তিনি কীভাবে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেন, সে তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে তাঁর পরিবার এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ দায়ের করলে আমরা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’