হ‌বিগ‌ঞ্জে মু‌ক্তি‌যোদ্ধা সমা‌বে‌শে প্রধান অ‌তি‌থির বক্তব্য দেন বিএন‌পি মহাস‌চিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
হ‌বিগ‌ঞ্জে মু‌ক্তি‌যোদ্ধা সমা‌বে‌শে প্রধান অ‌তি‌থির বক্তব্য দেন বিএন‌পি মহাস‌চিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

কিছু দল মানুষকে বিভ্রান্ত করছে: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, কিছু দল দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এই বলে, বিএনপি জুলাই সংস্কার মানে না। অথচ ১৯৭৫ সালে পর বিএনপিই এ দেশের মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে মুক্তি এনে দেয়। জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রব্যবস্থা চালু করেন। এ দেশের মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা ও সাংবাদিকের স্বাধীনতা জিয়াউর রহমান করে দেন।

আজ শনিবার দুপুরে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধে এক মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল। ৪ এপ্রিল ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধা হবিগঞ্জ জেলা ইউনিট।

বিএনপির মহাসচিব জানান, বাংলাদেশের স্বাধীনতার গর্বকে কিছু মানুষ খাটো করে বহির্বিশ্বে তুলে ধরে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকার এ দেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের ইতিহাসকে উপেক্ষিত করেছেন। উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘জেনারেল ওসমানী ছিলেন স্বাধীনতার সংগ্রামে সর্বাধিনায়ক। তাঁর ইতিহাস নতুন প্রজন্ম জানে না, যা লজ্জার। এভাবে স্বাধীনতাযুদ্ধে অবদান রাখা মানুষগুলোর অবদান মুছে দেয় আওয়ামী লীগ। বিএনপি স্বাধীনতার সংগ্রামে যার যার অবদান স্বীকার করে।’

দলের নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। আমরা এ দেশকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে গিয়ে নিতে চাই। কোনো দুর্ঘটনা যেন বিএনপিকে আক্রমণ করতে না পারে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যারা দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করবে, তাদের দলে রাখা হবে না। কারণ, দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল অনেক ভালো।’

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ, হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল, হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শাখাওয়াত হাসান (জীবন) ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক জি এম সরফরাজ। সভাপতিত্ব করেন হবিগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা (রফিক)।

বেলা ১১টায় শুরু হয় সমাবেশ। সমাবেশে আলোচনা সভা, মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণা, দেশাত্মবোধক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং তরুণদের জন্য বিশেষ উদ্বুদ্ধকরণ পর্ব রাখা হয়।

‘তেলিয়াপাড়া দিবস’ বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের ইতিহাসে অনেক তাৎপর্য বহন করে। স্বাধীনতার যুদ্ধে পুরো দেশকে ওই দিন ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয় তেলিয়াপা-চা বাগানের বাংলোতে। গঠন করা হয় এস কে ফোর্স ও জেড ফোর্স। স্বাধীনতাযুদ্ধের নকশা প্রণয়ন এবং যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া। সম্মুখ সমরের পাশাপাশি একটি রাজনৈতিক সরকার গঠনের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত ছিল এগুলো। এর সবই এসেছিল গোপন এক বৈঠক থেকে। তাতে অংশ নেন ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ২৭ জন সেনা কর্মকর্তা।

ঐতিহাসিক ওই বৈঠকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম এ জি ওসমানী। তিনি ভারতের আগরতলা থেকে এসে ওই বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন কর্নেল এম এ রব, মেজর সি আর দত্ত, মেজর জিয়াউর রহমান, মেজর কে এম সফিউল্লাহ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সালাউদ্দীন মোহাম্মদ (রেজা), মেজর খালেদ মোশাররফ, মেজর কাজী নুরুজ্জামান, মেজর নুরুল ইসলাম, মেজর শাফায়াত জামিল, মেজর মঈনুল হোসেন চৌধুরী, ক্যাপ্টেন নাসিম, লেফটেন্যান্ট সৈয়দ ইব্রাহীম প্রমুখ। ভারত সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে বৈঠকে অংশ নেন ব্রিগেডিয়ার শুভ্রমানিয়ম, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পূর্বাঞ্চলীয় মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার ভি সি পান্ডে এবং আগরতলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওমেস সায়গল।