নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের বালিকাদের ফুটবলে ‘ফাইনাল সেরা’ হওয়া রংপুরের কিশোরী ফুটবলার স্মৃতি কিসকুর মায়ের খোঁজ পাওয়া গেছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর আজ শুক্রবার সকালে গাজীপুর মহানগরীর মোগরখাল এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ওই সময় অনেক দিন পর মোগরখালের নিজের কক্ষ থেকেই ভিডিও কলে মেয়ের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
স্মৃতি কিসকুর মাকে উদ্ধারের বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুল আলম খান।
ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস ধরে মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিল না স্মৃতি। কারণ, তার মায়ের কাছে কোনো মুঠোফোন ছিল না। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে রংপুর বিভাগকে শিরোপা জেতানোর পর ট্রফি নিয়ে বাড়ি ফিরেও মাকে পায়নি সে। পরে জানতে পারে, কাজের সন্ধানে মা ঢাকায় এসেছেন। এরপর মায়ের সন্ধান চেয়ে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করে স্মৃতি।
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চক কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা স্মৃতি কিসকু অত্যন্ত সাধারণ পরিবারে বেড়ে উঠেছে। বাবা সোবহান হাসদারের মৃত্যুর পর সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তার মা। পরিবারের অভাব–অনটনের মধ্যেও বিভিন্ন বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে মেয়ের খেলাধুলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছিলেন তিনি। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে রংপুর বিভাগের হয়ে স্ট্রাইকার হিসেবে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে দলের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে স্মৃতি কিসকু। ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়ও নির্বাচিত হয় সে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুল আলম খানের নেতৃত্বে একটি দল গাজীপুর থেকে স্মৃতি কিসকুর মা মাতিমাই হেমরনকে ঢাকায় নিয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর ভিডিও কলে মাকে দেখতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে স্মৃতি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস ধরে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোগরখাল এলাকায় আবুল হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকছিলেন মাতিমাই। স্থানীয় একটি পোশাক কারখানার প্রশিক্ষণকেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন তিনি। তাঁর মুঠোফোন না থাকায় মেয়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। মাতিমাইকে খুঁজে বের করতে ও ঢাকায় নিয়ে আসতে সহায়তা করেন মাতিমাইয়ের এলাকার বাসিন্দা শাহাজাহান মিয়া ও গাজীপুর জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।
মাতিমাই সাংবাদিকদের বলেন, মেয়ের ফুটবল সাফল্যের বিষয়টি তিনি পুরোপুরি বুঝতে পারেননি। তবে অনেক কষ্ট করে মেয়েকে মানুষ করেছেন। তাঁর আশা, মেয়ে আরও বড় ফুটবলার হবে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুল আলম খান বলেন, স্মৃতি কিসকুর ফুটবল প্রতিভা বিকাশে পারিবারিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সেই বিবেচনায় সরকারের নির্দেশনায় তার মাকে ঢাকায় আনা হয়েছে। পরিবারটির জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।