কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশিমুল গ্রামে ২৮ বছর আগে সেতুটি নির্মিত হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় কোনো যানবাহন চলাচল করেনি। সেতুর এক পাশে চলাচলের জন্য স্থানীয়রা নির্মাণ করেছেন সিঁড়ি। সম্প্রতি তোলা
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশিমুল গ্রামে ২৮ বছর আগে সেতুটি নির্মিত হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় কোনো যানবাহন চলাচল করেনি। সেতুর এক পাশে চলাচলের জন্য স্থানীয়রা নির্মাণ করেছেন সিঁড়ি। সম্প্রতি তোলা

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ২৮ বছর ধরে সেতু পড়ে আছে

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশিমুল ইউনিয়নের বাকশিমুল গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে ঘুংঘুর নদ। এই নদের ওপর ২৮ বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছিল একটি সেতু। কিন্তু এত বছরেও সেতুটির দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। ফলে সেতুটি দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করেনি।

সেতুটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০ ফুট এবং প্রস্থ ১০ ফুট। বছর পাঁচেক আগে স্থানীয় লোকজন নিজেদের উদ্যোগে সেতুর এক পাশে ৯টি সিঁড়ি নির্মাণ করেছেন। অন্য পাশে কোনো সিঁড়ি নেই। সেখানে ঝুঁকি নিয়ে সেতুতে উঠতে ও নামতে হয়। সমতল থেকে সেতুটির অবস্থান অনেকটা খাড়া হওয়ায় শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের সমস্যায় পড়তে হয়।

পূর্ব পাশে সেতুর গোড়ায় ৯টি সিঁড়ি আছে। ওই সিঁড়ি বেয়ে স্থানীয় লোকজন সেতুতে উঠে নদ পার হন। পশ্চিম পাশে সেতুতে ওঠানামার জন্য কয়েকটি মাটি ও বালুর বস্তা দেওয়া হয়েছে। পূর্ব পাশে সেতুসংলগ্ন জায়গায় পাকা সড়ক আছে। পশ্চিম পাশেও প্রায় ২০ ফুট দূরে একটি পাকা সড়ক আছে। দুই পাশের সড়কের সঙ্গে সেতুটির সংযোগ স্থাপন করা গেলে এটি আবার ব্যবহারযোগ্য হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বাকশিমুল গ্রামের বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন, বাকশিমুল ইউনিয়নের মধ্যে বাকশিমুল গ্রামটি বেশ বড়। সংযোগ সড়ক থাকলে এই সেতু দিয়ে বাকশিমুল ছাড়াও ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের ২০ হাজার মানুষের চলাচলে সুবিধা পেত।

বাকশিমুল গ্রামের বাসিন্দা মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ‘এই ব্রিজ দিয়া গাড়ি না চলার কারণে আমরারে অনেক পথ ঘুইরা আসা-যাওয়া করতে হয়। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা উদ্যোগ নিলে আমরা অনেক আগেই এই ব্রিজ দিয়া চলাচল করতে পারতাম। এহনকার সময়ে এই রকম একটা ব্রিজ বানাইতে কোটি টাকার বেশি খরচ হইবো। আমরা চাইতাছি, ব্রিজের দুই পাশের রাস্তাডা নির্মাণ হোক। এরপর সংস্কার কইরা ব্রিজডারে ব্যবহার করনের ব্যবস্থা করুক কর্তৃপক্ষ।’

সেতুটি কার, তা নিয়েও ছিল অনিশ্চয়তা

স্থানীয় লোকজন জানান, সেতুটি নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় ধরে এর রক্ষণাবেক্ষণ বা সংযোগ সড়ক নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। এমনকি কোন সরকারি দপ্তর সেতুটি নির্মাণ করেছে, তা নিয়েও অনেক বাসিন্দা নিশ্চিত ছিলেন না।

বাকশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, সেতুটি ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে নির্মাণ করা হয়েছে। তাঁর ধারণা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

আবদুল করিম বলেন, ‘যে জায়গায় সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। কিন্তু বর্তমানে সেতু দিয়ে গাড়ি চলাচলের কোনো পরিবেশ নেই। দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা গেলে সেতুটি এখনো ব্যবহার করা সম্ভব।’

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশিমুল গ্রামে ২৮ বছর আগে সেতুটি নির্মিত হয়। তবে সংযোগ সড়ক না থাকায় যানবাহন চলাচল করতে পারে না

বুড়িচং উপজেলার এলজিইডির সদ্য সাবেক প্রকৌশলী আলিফ আহমেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেতুটি এলজিইডির মাধ্যমে নির্মাণ করা হয়েছিল। সেতু নির্মাণের সময় সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা ছেড়ে দিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের বলা হয়েছিল। পরে ওই জায়গার একাংশ নিয়ে স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে মামলা হয়। মামলা চলমান থাকায় সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।

গত মঙ্গলবার দুপুরে বুড়িচং উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মোহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, তিনি সম্প্রতি বুড়িচংয়ে যোগ দিয়েছেন। সেতুটির বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানেন না। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি এমন হয়ে থাকলে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিস্তারিত খোঁজখবর নেব। এরপর কীভাবে সেতুটিকে মানুষের চলাচলের উপযোগী করা যায়, সে বিষয়ে চেষ্টা করা হবে।’

সেতু দিয়ে ওঠানামার সময় বিভিন্ন সময়ে অনেক মানুষ হোঁচট খেয়ে আহত হয়েছেন বলে জানান বাকশিমুল গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক মফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বড় ব্রিজ হইলেও এইডা দিয়া পায়ে হাঁটা ছাড়া কোনো গাড়ি চলে নাই। একসময় মানুষ নৌকায় এই নদ পার হইত। ব্রিজ হওয়ার পর আমরা ভাবছিলাম জীবনযাত্রা সহজ হইবো। কিন্তু ব্রিজটা মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়াইছে।’