প্রবাসী সলিম সরকারের লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার আদুরভিটি গ্রামে
প্রবাসী সলিম সরকারের লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার আদুরভিটি গ্রামে

‘পোলাডা বিদেশ গিয়া লাশ অইল, অনে সংসার চালাইব কে’

‘পোলাডা বিদেশ গিয়া লাশ অইল, অনে সংসার চালাইব কে? তার বউ, দুইডা বাচ্চার কী অইব? আমার সব শেষ। পোলা ছাড়া ক্যামনে বাঁচুম? কে আমারে মা কইয়া ডাকব?’ ছেলের লাশের কফিনের পাশে এভাবেই আহাজারি করছিলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার আদুরভিটি গ্রামের সৌদিপ্রবাসী সলিম সরকারের (৩০) মা হাজেরা বেগম।

গত ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে যান সলিম সরকার। কাজ নেন সেখানকার দাম্মাম শহরের একটি কোম্পানিতে। সেখানেই একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। ২৭ নভেম্বর গভীর রাতে তিনি নিখোঁজ হন। পরের দিন দাম্মাম শহরে একটি আবাসিক ভবনের নিচ থেকে সৌদি পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে।

সৌদি আরবে মারা যাওয়ার মাত্র ৫৫ দিন পর নানা আনুষ্ঠানিকতা শেষে গতকাল শুক্রবার বিকেলে সলিমের লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। এ সময় এলাকাবাসী ও স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, সংসারের হাল ধরতে কিশোর বয়স থেকেই সলিম ট্রলি চালাতেন। যা পেতেন, তা দিয়ে ঠিকমতো সংসার চলত না। স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়ে এবং স্বজনদের কাছ থেকে আরও কিছু টাকা ধার করে গত ১০ নভেম্বর তিনি সৌদি আরবে যান।

২৭ নভেম্বর রাত নয়টার পর সলিম মুঠোফোনে মা ও স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। এর পর থেকে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সেখানে তাঁর এক পরিচিতজনের মাধ্যমে স্বজনেরা জানতে পারেন, ওই দিন রাত দুইটার পর থেকে তাঁর খোঁজ মিলছে না।

পরিবার জানায়, ২৮ নভেম্বর সকালে সেখানকার একটি আবাসিক ভবনের নিচে সলিমের লাশ পাওয়া যায়। পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে রাখে। নানা জটিলতায় তাঁর লাশ দেশে আসতে বিলম্ব হয়। অবশেষে সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় গতকাল শুক্রবার বিকেলে তাঁর লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। রাতে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর লাশ দাফন সম্পন্ন হয়।

সলিম সরকারের স্ত্রী হেনা আক্তার, মা হাজেরা বেগম ও স্বজনদের অভিযোগ, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে হত্যার কারণ কেউ জানেন না। তাঁরা ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত চান।

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, ওই প্রবাসীর লাশ বাড়িতে আসা ও দাফন পর্যন্ত থানা-পুলিশের সার্বিক সহযোগিতা ছিল। এটি কোন ধরনের মৃত্যু, তা সৌদির পুলিশ খতিয়ে দেখতে পারে।