
ঢাকার সাভারে মাদক মামলার এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দুই পুলিশ সদস্য। আসামিপক্ষের লোকজনের হামলায় আহত ওই দুই পুলিশ সদস্যকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ সময় গ্রেপ্তার হওয়া আসামিকেও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
গতকাল মঙ্গলবার রাত পৌনে আটটার দিকে সাভারের বক্তারপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আহত দুই পুলিশ সদস্য হলেন সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম শামীম ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মশিউর রহমান খান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সাভারের কাঞ্চনপুর এলাকার আরিফ ইসলাম (২০) ও সাগর মিয়া (২৩), বক্তারপুর এলাকার মারুফ (২০) ও রাকেস মাল (৩০) এবং পোড়াবাড়ি এলাকার হুমায়ুন (১৯)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এসআই শামীম জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করতে তিনি ও এএসআই মশিউর রহমান বক্তারপুর এলাকায় যান। অভিযানের এক পর্যায়ে রাত সাড়ে সাতটার দিকে তাঁরা রফিকুলকে গ্রেপ্তার করেন।
শামীমের দাবি, গ্রেপ্তারের পর হাতকড়া পরানোর সময় রফিকুল ও তাঁর সহযোগীরা ইট ও লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। পরে আরও কয়েকজন যোগ দিলে ৪০–৫০ জনের একটি দল দুই পুলিশ সদস্যকে মারধর করে এবং রফিকুলকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা পুলিশের আরেকটি দল সেখানে পৌঁছে ওই দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে। তবে এর আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফারদিন আবদুর রাজ্জাক বলেন, রাত সাড়ে আটটার দিকে আহত অবস্থায় দুই পুলিশ সদস্যকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে।
এ ঘটনায় আহত পুলিশ সদস্য এসএম শামীম বাদী হয়ে ১৭ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় ৪০-৫০ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গেলে দুই পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। আহত দুই সদস্য চিকিৎসাধীন। জড়িত অন্য ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে।