মাগুরায় জেলা স্বেচ্ছাসবক দলের এক নেতার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের সামনে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ বিএনপির। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা যুবলীগের নেতারা। পুলিশ বলছে, হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলেও হামলাকারী চিহ্নিত করা যায়নি।
গতকাল বুধবার বিকেল চারটার দিকে মাগুরা পুলিশ লাইনসের মূল ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ভাঙচুর হওয়া ইয়াম্মি ফুড কোর্ট নামের ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসানুর রহমান।
হাসানুর রহমানের স্ত্রী সুমাইয়া রহমান বলেন, বিকেল ৪টার দিকে ৩০–৫০ জনের একটি দল এসে ওই প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। তাদের প্রায় সবার হাতে রামদা, ছ্যান, লোহার রডসহ ধারালো অস্ত্র ছিল। অনেকের মাথায় হেলমেট ছিল। প্রতিষ্ঠানটি তখন তালাবদ্ধ ছিল উল্লেখ করে সুমাইয়া রহমান বলেন, তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে রেফ্রিজারেটর, এসি, কফি মেশিন, আলমারি, চারপাশের থাই গ্লাসসহ সবকিছু তছনছ করে দেয়। ড্রয়ারে থাকা নগদ টাকাসহ কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালিয়ে পাশাপাশি দুইটা দোকান ভাঙচুর করে তারা।
হাসানুর রহমান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বুধবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে মাগুরা–যশোর মহাসড়কে অবরোধের পক্ষে (জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ব্যানারে) আমরা একটা মিছিল করি। এই মিছিলের ১৫ মিনিটের মধ্যে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ফজলুর রহমানসহ যুবলীগ–ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা মিলে এই হামলা করে।’
তবে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ফজলুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ ধরনের (বিএনপি নেতার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা) কোনো ঘটনা আমার নলেজে (জানা) নেই। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গায় আমাদের নেতা–কর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন। আমাদের (যুবলীগের) অবস্থান ছিল ভায়নার মোড়। ওই সময় (বুধবার বিকেলে যখন হামলা হয়) আমরা ভায়নার মোড়ে ছিলাম।’
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহমেদের অভিযোগ, হামলাটি হয়েছে পুলিশের সামনে এবং তাদের সহযোগিতায়। কারণ হিসেবে তিনি বলছেন, ওই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠাটির অবস্থান মাগুরা ঝিনাইদহ মহাসড়ক ঘেঁষে এবং পুলিশ লাইনসের মূল ফটকের ঠিক উল্টো দিকে। দুটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবধান কয়েক গজ। এই নেতা প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ পুরোপুরি আওয়ামী লীগের নিজস্ব বাহিনী হিসেবে কাজ করছে। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে সেখানে তাণ্ডব চলেছে আর পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে।
জানতে চাইলে মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) দেবাশীষ কর্মকার আজ বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইয়াম্মি রেস্টুরেন্ট নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর হয়েছে। তবে সেটা কোনো বিএনপি নেতার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কি না, জানি না। খবর পেয়ে আমরা সেখানে যাই। কিন্তু ৩০ সেকেন্ড থেকে এক মিনিটের মধ্যেই সবাই পালিয়ে যায়।’ হামলাকারীদের কাউকে এখনো চিহ্নিত করা যায়নি উল্লেখ করে এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, তাদের চিহ্নিত করতে পুলিশ লাইনস ও আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে।
বিএনপির অভিযোগের বিষয়ে দেবাশীষ কর্মকার বলেন, ‘এ কথা একেবারেই মিথ্যা। পুলিশ লাইনসের ভেতরে ফোর্স দাঁড়িয়ে ছিল গেট ডিউটির জন্য। তা ছাড়া ওখানে আমাদের কোনো পিকেটিং ডিউটি ছিল না। ঘটনার সময় পুলিশ লাইনসের ভেতরের পুলিশরা এগিয়ে এসেছিল। খবর পেয়ে আমরাও সেখানে যাই।’