
সিলেট-১ (নগর-সদর) আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন প্রতিবাদী অনশন শুরু করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নিশ্চিতের দাবিতে তাঁর ওই কর্মসূচি।
আজ রোববার সকাল ১০টা থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মুক্তমঞ্চে আনোয়ার হোসেন এ কর্মসূচি শুরু করেন। তাঁর অভিযোগ, সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রশাসন শুধু দুজন প্রার্থীর (বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী) দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। তাঁরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু অন্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
প্রশাসন একেক সময় একেক ধরনের কথা বলছেন অভিযোগ তুলে সিপিবির এই প্রার্থী বলেন, ‘কখনো রঙিন, কখনো বিলবোর্ড হয়নি, ব্যানার হয়ে গেছে বলছেন। এ নিয়ে ওই দুই প্রার্থীর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তাঁরা কোনো সদুত্তর দিতে পারেন না। আমাদের যেগুলো খুলে ফেলা হয়েছিল, সেগুলো তাঁরা ফেরতও দেননি। আমাদের নতুন করে লাগানোর কথাও বলছেন না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করছি, আমাদের প্রচারণার ক্ষেত্রে মনোযোগ নষ্ট করার বিশেষ উদ্দেশ্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করা হচ্ছে। এখনই যদি এ ধরনের কাজ করেন, তাহলে নির্বাচনের দিন আরও বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। এ কারণে আমরা মনে করছি, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই।’
আনোয়ার হোসেন নির্বাচন কমিশন কিংবা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে কোনো আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন বলে জানান। তিনি কর্মসূচি পালন করলেও তাঁর প্রচারণা কার্যক্রম চলমান আছে। অনশন কর্মসূচিতে তাঁর সঙ্গে দলীয় নেতা-কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে সিলেট জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, তিনি একটা সভায় আছেন। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন।
সিলেট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ধানের শীষ প্রতীকে ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত হাবিবুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এ ছাড়া আরও ছয়টি দলের ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন সিপিবির আনোয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলনের মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রণব জ্যোতি পাল, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের সঞ্জয় কান্ত দাস, গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন ও ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থী মো. শামীম হোসেন।