
নেত্রকোনার পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটি আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া একটি আসনে জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত মোট ৬৭৬টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফলের ভিত্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।
নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর)
এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের শরিক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের গোলাম রব্বানী রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৪৮৮ ভোট।
কায়সার কামাল ৭০ হাজার ৮৫৫ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন।
এ ছাড়া জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন খান লাঙ্গল প্রতীকে ১ হাজার ২৩ ভোট, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আলকাছ উদ্দিন মীর কাস্তে প্রতীকে ৪ হাজার ৪২৯ ভোট পেয়েছেন।
আসনটিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি চিকিৎসক আনোয়ারুল হক ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭১ হাজার ৩৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির ফাহিম রহমান খান পাঠান শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৩৬৭ ভোট।
আনোয়ারুল হক ১ লাখ ৪ হাজার ৩২ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।
এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা আবদুল কাইয়ুম হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ১৫ হাজার ২২০ ভোট ও জাতীয় পার্টির এ বি এম রফিকুল হক তালুকদার লাঙ্গল প্রতীকে ৪ হাজার ৮৪৫ ভোট।
এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম হিলালী ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৬৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া দুলাল ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৯৬১ ভোট।
রফিকুল ইসলাম হিলালী ৪৯ হাজার ৫০৮ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন।
এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর খায়রুল কবীর নিয়োগী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৪১ হাজার ৫৫৬ ভোট, জাতীয় পার্টির আবুল হোসেন তালুকদার লাঙ্গল প্রতীকে ৫৭৪ ভোট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জাকির হোসেন হাতপাখা প্রতীকে ২ হাজার ৭৬০ ভোট পেয়েছেন।
আসনটিতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬০ হাজার ৮০১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আল হেলাল তালুকদার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৮৪০ ভোট, কমিউনিস্ট পার্টির জলি তালুকদার কাস্তে প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৫৯ ভোট ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির চম্পা রানী সরকার কোদাল প্রতীকে পেয়েছেন ২৮২ ভোট।
লুৎফুজ্জামান বাবর ১ লাখ ২০ হাজার ৯৬১ ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন।
এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাছুম মোস্তফা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৮২ হাজার ১৭৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবু তাহের তালুকদার ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৪১২ ভোট। তাঁদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ২ হাজার ৭৬৫টি।
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নুরুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকে ৩ হাজার ৩৪১ ভোট পেয়েছেন।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ৫ লাখ ৯৯ হাজার ৭৬৬ এবং ‘না’-তে ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৯০৩ ভোট পড়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান গতকাল রাত তিনটার দিকে নিজ কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।