
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার মেদাকচ্ছপিয়া ঢালা। মহাসড়কের এই অংশটির দুপাশে ঘন জঙ্গল। আঁকাবাঁকা সড়ক। আশপাশে কোনো দোকানপাট নেই, নেই কোনো বাড়িঘর। তিনজন শ্রমজীবী মানুষ জঙ্গল থেকে লাকড়ি মাথায় বের হচ্ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে থমকে দাঁড়ান তাঁরা। সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে দেখেন, চোখের সামনেই দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একটি বাসের ছাদ উড়ে ছিটকে পড়ে রাস্তার ওপর। আরেকটি বাস অদূরে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে থামে। ছাদ উড়ে যাওয়া বাসের ভেতর থেকে যাত্রীদের আর্তচিৎকার ভেসে আসছিল। সড়কে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে ছিল বাসের নানা অংশ, যাত্রীদের আসন, মালপত্র।
আজ সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা এভারগ্রিন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী এসি বাসের সঙ্গে চকরিয়া থেকে কক্সবাজারমুখী স্থানীয় একটি লোকাল বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি বাসই দুমড়েমুচড়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনায় এক শিশু ও লোকাল বাসের চালকের মৃত্যু হয়েছে। চকরিয়ার মালুমঘাট হাইওয়ে থানার ওসি মাহবুব আলম জানান, নিহত ব্যক্তিরা হলেন কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মরিচ্যা এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে ও বাসচালক মোহাম্মদ আলী (২৫) এবং লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের বানিয়ারছড়া এলাকার মঞ্জুর আলীর এক বছর বয়সী সন্তান ইয়াহিয়া। দুর্ঘটনায় উভয় বাসের অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর বাস দুটি মহাসড়কের ওপর প্রায় দুই ঘণ্টা পড়ে থাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এ ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর হাইওয়ে পুলিশ বাস দুটি উদ্ধার করে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে।
বন থেকে লাকড়ি সংগ্রহে যাওয়া প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিকদের একজন সেলিম উদ্দিনের সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তিনি বলেন, দুর্ঘটনা যখন ঘটে তখন বৃষ্টি হচ্ছিল। চকরিয়া থেকে কক্সবাজারের যাচ্ছিল একটি লোকাল বাস। আর এভারগ্রিন নামের এসি বাসটি কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। ছাদ উড়ে যাওয়া লোকাল বাসটি বৃষ্টির কারণে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারায়। এতে চট্টগ্রামমুখী এসি বাসটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। তখন এসি বাসটিও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষে চোখের সামনেই বিকট শব্দে উড়ে যায় একটি বাসের ছাদ। দুর্ঘটনায় লোকাল বাস থেকে একটি শিশু নিচে ছিটকে পড়ে মারা যায়। বাসটির চালকও গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
মালুমঘাট হাইওয়ে থানার ওসি মাহাবুব আলম প্রথম আলোকে বলেন, মূলত বৃষ্টির কারণে স্থানীয় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। এ কারণে দুটো বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ দুর্ঘটনায় এক শিশু ও একটি বাসের চালকের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের নাম জানা গেছে বলে জানিয়েছেন ওসি। তাঁরা হলেন মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৫), মোহাম্মদ নাইম (২৩), মাবুদ আবদুল (২৭), জোসনা আক্তার ৩২), মোহাম্মদ জনি (২০), মো. আলী (৩১), ইমা (৮), ফাতেমা বেগম (৩৪), মো. রফিকুল ইসলাম (২৭), মোহাম্মদ ইসমাইল (২৯) ও মোহাম্মদ সিফাত (৩৫)। অন্যদের নাম–পরিচয় পাওয়া যায়নি। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ইসমাইল ও সিফাতকে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন ওসি মাহবুব আলম।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের মেদাকচ্ছপিয়ার দুই পাশে দীর্ঘ দুই কিলোমিটার করে যানজট। পুলিশ মহাসড়ক থেকে গাড়ি সরানোর পর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।