চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ
চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ

বিএনপি নেতাকে ‘দুষ্কৃতকারীর’ তালিকায় রেখে বিকেলে পুলিশের গণবিজ্ঞপ্তি, মধ্যরাতে সংশোধন

৩৩০ জন ‘দুষ্কৃতকারীর’ নগরে অবস্থান ও প্রবেশ নিষিদ্ধ করে গতকাল শনিবার গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ। গতকাল বিকেলে ‘দুষ্কৃতকারীদের’ তালিকাসহ নগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজের সই করা সেই গণবিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয় গণমাধ্যমেও। তবে মধ্যরাতে সেটি সংশোধন করে তালিকায় থাকা এক বিএনপি নেতার নাম বাদ দিয়েছে পুলিশ।

গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দুষ্কৃতকারীদের তালিকাটি প্রথমে পাঠানো হয় গতকাল বিকেল ৪টা ৪৬ মিনিটে। দুষ্কৃতকারীদের এ তালিকায় ৪ নম্বরে ছিল নগর বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত আজমের নাম। তবে দিবাগত রাত ১২টা ২৪ মিনিটে তালিকাটি সংশোধন করে পুনরায় পাঠায় নগর পুলিশ। এতে শওকত আজমের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম শহরের শান্তি–শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তার স্বার্থে তালিকায় থাকা দুষ্কৃতকারীদের চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান ও প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তালিকায় নাম রয়েছে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, রাউজানের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী ও সাইফুল আলমের। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলরদের মধ্যে গাজী শফিউল আজিম, শৈবাল দাশ , সাহেদ ইকবাল, জহরুল আলম জসিম, মোহাম্মদ হোসেন হিরণ, নাজমুল হক, হাসান মুরাদ, গিয়াস উদ্দিন, নূর মুস্তাফা, আবুল হাসনাত বেলাল, মোবারক হোসেনের নাম রয়েছে।

সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী ও চট্টগ্রাম সিটিকরপোরশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন

৩৩০ জন ‘দুষ্কৃতকারীর’ এ তালিকায় সন্ত্রাসীদের মধ্যে রয়েছেন বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী, তাঁর সহযোগী সাজাদ হোসেন, মোবারক হোসেন, মোহাম্মদ রায়হান, খোরশেদ, সাজ্জাদের স্ত্রী তামান্না শারমিন; ইসমাইল হোসেন, শহিদুল ইসলাম বুইস্যা, নুরুল আলম উরফে হামকা আলম।

সংশোধিত তালিকায় শওকত আজমের নাম বাদ গেলেও বাকলিয়া থানা এলাকার মোর্শেদ খান, কোতোয়ালির হাসান, পাহাড়তলীর মাসুমসহ নগর বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের যুক্ত বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীর নাম রয়েছে। বিএনপি নেতা-কর্মীদের দাবি, তাঁদের দলের কয়েকজনকে তালিকায় রাখা হলেও অনেক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রকাশ্য অস্ত্রধারী ও নগরের অনেক চিহ্নিত সন্ত্রাসীর নাম তালিকায় উঠে আসেনি।

নগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান আজ সকালে প্রথম আলোকে বলেন, ‘পুলিশ কীভাবে, কিসের ভিত্তিতে বিএনপি নেতা-কর্মীদের নাম দুষ্কৃতকারীদের তালিকায় তুলেছে, বুঝতে পারছি না। কেউ প্রকৃত অপরাধী কিংবা সন্ত্রাসী হয়ে থাকলে তার নাম অবশ্যই তোলা উচিত। আইনগত ব্যবস্থা নিতে দলের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রকৃত অপরাধী কিংবা অস্ত্রধারী অনেকে ঘুরে বেড়ালেও তালিকায় তাদের নাম আসেনি।’

২০০০ সালের ১ অক্টোবর একে-৪৭ রাইফেলসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন বড় সাজ্জাদ হিসেবে পরিচিত সাজ্জাদ আলী

তালিকায় বিএনপি নেতার নাম থাকা এবং পরে তা সংশোধনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদের কাছে। তিনি আজ দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভুলবশত ওই বিএনপি নেতার নাম উঠে গেছে। এ ছাড়া প্রয়াত এক সাবেক কাউন্সিলরের নামও তালিকায় রয়েছে। সেটিও বাদ দেওয়া হচ্ছে।’

তালিকায় সন্ত্রাসী ছাড়াও কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অনেকের নাম থাকা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে ও গোপনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা করে আসছে। তাই তাদের বিষয়ে নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ।