ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাস হত্যায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ সকালে ডিবি কার্যালয়ে
ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাস হত্যায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ সকালে ডিবি কার্যালয়ে

ময়মনসিংহে পোশাকশ্রমিক দীপু দাস হত্যায় আরও এক আসামি ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাস (২৭) হত্যায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকার ডেমরা থানার সারুলিয়া এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ইয়াছিন আরাফাত (২৫) ভালুকা উপজেলার দক্ষিণ হবিরবাড়ি কড়ইতলা মোড় এলাকার গাজী মিয়ার ছেলে। তিনি উপজেলার কাশর এলাকায় শেখবাড়ি মসজিদে ইমামতি করেন এবং মদিনা তাহফিজুল কোরআন মাদ্রাসার শিক্ষক।

পুলিশ জানায়, দীপু চন্দ্র দাস হত্যার ঘটনায় ইয়াছিন স্থানীয় লোকজনকে উসকানি দিয়েছিলেন। ওই হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯ আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এ সম্পর্কে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘটনার সময়ের ভিডিওতে দেখা গেছে ইয়াছিন আরাফাত বক্তব্য দিয়ে মানুষকে উত্তেজিত করেছিলেন। দীপু হত্যাকাণ্ডের পর কাউকে যেন গ্রেপ্তার না করা হয়, সে জন্য পুলিশকে চাপ ও জবানবন্দি নিতে চেয়েছিলেন। ইয়াছিনের অবস্থান শনাক্ত করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ১৮ ডিসেম্বর দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ইয়াছিন আরাফাত আত্মগোপনে চলে যান। তিনি টানা ১২ দিন ঢাকার ডেমরা থানার সারুলিয়া এলাকায় বিভিন্ন মাদ্রাসায় অবস্থান করেন। স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবেও যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে অভিযান চালিয়ে গতকাল বিকেলে ইয়াসিন আরাফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার তাঁকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

ভালুকার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার কর্মী দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে কারখানা থেকে এক কিলোমিটার দূরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় সড়ক বিভাজকের একটি গাছে ঝুলিয়ে মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

নিহত দীপু চন্দ্র দাসের বাড়ি তারাকান্দা উপজেলার বানিহালা ইউনিয়নের মোকামিয়াকান্দা গ্রামে। এ ঘটনায় তাঁর ভাই অপু চন্দ্র দাস অজ্ঞাতপরিচয় ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।