নোয়াখালীতে বিএনপির তিন ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমান, মোহাম্মদ ফজলুল আজিম ও তানভীর উদ্দিন
নোয়াখালীতে বিএনপির তিন ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমান, মোহাম্মদ ফজলুল আজিম ও তানভীর উদ্দিন

নোয়াখালীতে অনড় বিএনপির তিন ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নোয়াখালীর দুটি সংসদীয় আসনে বিএনপির তিন ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাঁদের মনোনয়নপত্র ইতিমধ্যে বৈধ ঘোষিত হয়েছে। গতকাল রোববার পর্যন্ত তাঁরা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে অনড় ছিলেন।

বিএনপির এ দুই আসনই এখন জেলাজুড়ে আলোচনায়। এর একটি হলো নোয়াখালী-২ (সেনবাগ ও সোনাইমুড়ীর আংশিক) ও আরেকটি নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া)। নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে ইতিমধ্যে অনানুষ্ঠানিক প্রচার ও গণসংযোগ চালাচ্ছেন। পাশাপাশি তাঁদের অনুসারীরাও প্রস্তুতিতে সক্রিয় রয়েছেন। এখন শুধু প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার অপেক্ষা করছেন তাঁরা।

নোয়াখালী-২ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন কাজী মফিজুর রহমান। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। এর আগে তিনি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিন দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এই নেতা পেশায় ব্যবসায়ী।

প্রতীক বরাদ্দ না হওয়ায় প্রকাশ্যে প্রচারণা করছি না। আচরণবিধির মধ্যে থেকে যতটুকু সম্ভব কাজ করছি। প্রতীক পাওয়ার পরদিনই পুরোদমে মাঠে নামব।
তানভীর উদ্দিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী নোয়াখালী-৬

অন্যদিকে নোয়াখালী-৬ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন তানভীর উদ্দিন। তিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাঁকে সাময়িকভাবে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হলেও কয়েক মাস পর তা প্রত্যাহার করা হয়। পেশায় তিনি প্রকৌশলী। একই আসনে আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজিম। তিনি ১৯৯৬ সালে বিএনপি থেকে ও ২০০৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্র জানায়, মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর দলের বিভিন্ন পর্যায় থেকে এই তিন প্রার্থী ও তাঁদের ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়। তবে তিনজনই নির্বাচন করার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। প্রতীক বরাদ্দের পর পুরোদমে প্রচারণা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। এই তিন বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার কারণে এরই মধ্যে সেনবাগ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ওমর ফারুকসহ চার নেতাকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্র। যদিও তিন প্রার্থীর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর দলের বিভিন্ন পর্যায় থেকে এই তিন প্রার্থী ও তাঁদের ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়। তবে তিনজনই নির্বাচন করার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। প্রতীক বরাদ্দের পর পুরোদমে প্রচারণা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা।

গত শনিবার ও গতকাল রোববার দুই আসনের বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অন্তত ১০ নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্রোহী প্রার্থীরা এ আসনে দলের মনোনীত প্রার্থী পরিবর্তনের জন্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করেছেন। তবে কেন্দ্রের সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তাঁদের দাবি, ভোটের ফলাফলের মাধ্যমেই তাঁরা নিজেদের অবস্থানের যৌক্তিকতা প্রমাণ করবেন।

জানতে চাইলে নোয়াখালী-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে আমার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। কেন্দ্র কমিটি গঠনসহ নির্বাচনী কাজ চলছে। প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করব।’ প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়ে দল থেকে অনুরোধ করা হয়েছে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাকে অনুরোধ করার আগেই আমি কেন্দ্রীয় নেতাদের আমার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছি।’

নোয়াখালী-৬ আসনের প্রার্থী তানভীর উদ্দিন বলেন, ‘প্রতীক বরাদ্দ না হওয়ায় প্রকাশ্যে প্রচারণা করছি না। আচরণবিধির মধ্যে থেকে যতটুকু সম্ভব কাজ করছি। প্রতীক পাওয়ার পরদিনই পুরোদমে মাঠে নামব।’ সম্ভাব্য দলীয় শাস্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আগেও চার মাস বহিষ্কার ছিলাম। বিষয়টি নিয়ে আমার কোনো চিন্তা নেই।’

একই আসনের আরেক প্রার্থী ফজলুল আজিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী আফছার উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ফজলুল আজিম নির্বাচন করার সিদ্ধান্তে অনড় এবং তাঁর অনুসারীরা এলাকায় কাজ করছেন।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. হারুনু রশিদ আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা জেলার বিষয় নয়, কেন্দ্রীয় নেতারা দেখছেন। তাঁরা যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন। তবে এখন পর্যন্ত কী অগ্রগতি হয়েছে, তা আমার জানা নেই।’