আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে মানববন্ধন কর্মসূচি করতে পারেননি বিএনপিপন্থী আইনজীবী ও নেতা-কর্মীরা। মানববন্ধনের ব্যানার কেড়ে নিয়ে কর্মসূচি পণ্ড করে দেন আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা। পরে তাঁদের আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় গোয়েন্দা পুলিশ জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক রুমা আক্তারসহ চারজনকে আটক করলেও পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
আজ রোববার দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে জেলা ও মহানগর বিএনপির ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিএনপির কর্মসূচি ঘিরে আদালত প্রাঙ্গণে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কর্মসূচিতে মহিলা দলের কয়েকজন নেত্রী ও নেতা-কর্মীদের স্বজনদের দেখা গেলেও বিএনপির নেতা-কর্মীদের দেখা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতির সামনে জেলা ও মহানগর বিএনপির ব্যানারে মানববন্ধন আয়োজন করেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। এ সময় বিএনপিপন্থী আইনজীবী ওমর ফারুক সেখানে বক্তব্য দেন। এরপর রূপগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সরফরাজের বাবা সিরাজুল হক বক্তব্য দেওয়ার সময় আওয়ামীপন্থী জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা ব্যানার কেড়ে নিয়ে কর্মসূচিতে বাধা দেন। পরে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি হাসান ফেরদৌস ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোহসীন মানববন্ধন থেকে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সরে যেতে বলেন। একপর্যায়ে তাঁরা বিএনপিপন্থী আইনজীবী ওমর ফারুককে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে ধাক্কা দিতে দিতে বলেন, ‘বহিরাগতদের নিয়ে বারের সামনে কী? আইনজীবীদের নিয়ে করো।’ এতে তাঁদের আয়োজন পণ্ড হয়ে যায়।
জানতে চাইলে হাসান ফেরদৌস প্রথম আলোকে বলেন, বহিরাগত লোকজন নিয়ে এসে তাঁরা আইনজীবী সমিতির সামনে ব্যানার নিয়ে মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেখানে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। তাঁরা কর্মসূচি করতে চাইলে আদালত প্রাঙ্গণের বাইরে গিয়ে করতে পারতেন। তিনি বলেন, ‘বাইরের লোকদের নিয়ে এসে এখানে কাউকে শো-অফ করতে দেওয়া হবে না। আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।’
এদিকে বিএনপির কর্মসূচি পণ্ড হওয়ার পর আদালত প্রাঙ্গণের বাইরে থেকে জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক রুমা আক্তার, সহসাংগঠনিক সম্পাদক তানজিলা আক্তার, রূপগঞ্জ থানা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সানজিদা আক্তার, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির মহিলাবিষয়ক সম্পাদক সালমা আক্তারকে আটক করে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সরকারি দলের আইনজীবীরা বাধা দিয়ে পণ্ড করে দিয়েছেন। জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদকসহ চারজনকে আটক করে নিয়ে গেছে ডিবি পুলিশ।’ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে একই জায়গায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ব্যানারে মানববন্ধন করেন নেতা-কর্মীরা। সেখানে যুবদল নেতা সরফরাজের চার বছর বয়সী ছেলে তার বাবার মুক্তির দাবি জানায়।