ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। আজ রোববার দুপুরে ভৈরব শহরের বঙ্গবন্ধু সরণির নদী বাংলা সেন্টার পয়েন্টে
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। আজ রোববার দুপুরে ভৈরব শহরের বঙ্গবন্ধু সরণির নদী বাংলা সেন্টার পয়েন্টে

রেস্তোরাঁয় পচা মাংসে রং, জমাটবাঁধা রক্তের পাশে ছিল আইসক্রিম

পচা ও বাসি খাবার বিক্রি, খাবারে অস্বাস্থ্যকর রং মেশানো এবং খাবার সংরক্ষণে অনিয়মের অভিযোগে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ছয়টি রেস্তোরাঁকে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আজ রোববার দুপুরে ভৈরব শহরের বঙ্গবন্ধু সরণির নদী বাংলা সেন্টার পয়েন্টের ফুড জোনে অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন ভৈরব উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ এম আজিমুল হক।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ভৈরবের আধুনিক শপিং মল হিসেবে পরিচিত নদী বাংলা সেন্টার পয়েন্টের দ্বিতীয় তলায় রয়েছে ছয়টি রেস্তোরাঁ। প্রতিদিন এসব রেস্তোরাঁয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ খাবার খান। অভিযানের সময় রেস্তোরাঁগুলোর খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণে নানা অনিয়ম দেখতে পান ভ্রাম্যমাণ আদালতের সদস্যরা। কয়েক দিন আগে রান্না করা মাংসে রং মিশিয়ে তা কাঁচা মাংসের মতো করে রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে কিছু মাংস পচে গিয়েছিল। এসব মাংস বিভিন্ন নাশতা তৈরিতে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল।

এ ছাড়া ফ্রিজে কাঁচা মাংসের সঙ্গে রান্না করা খাবার রাখা ছিল। কোথাও পুরোপুরি সেদ্ধ খাবারের সঙ্গে আধা সেদ্ধ খাবার রাখা ছিল। নাশতা তৈরির কিছু উপকরণে মেয়াদ বা প্রস্তুতের তারিখও উল্লেখ ছিল না। অভিযানের সময় রেস্তোরাঁগুলোর ফ্রিজে প্রায় এক থেকে দুই লিটার করে কাঁচা রক্ত জমাট অবস্থায় পাওয়া যায়। সেই জমাটবাঁধা রক্তের পাশেই আইসক্রিম রাখা ছিল।

ছয় রেস্তোরাঁকে জরিমানা

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, ইউএস বাংলা রেস্তোরাঁর মালিক শরীফুল ইসলামকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ওসান বাইটের মালিক দূর্জয় মিয়াকে ৫০ হাজার, ছোট মামা রেস্তোরাঁর মালিক মাসুদ মিয়াকে ৫০ হাজার, নরসিংদী ফুড জোনের ব্যবস্থাপক মহসিনকে ৫০ হাজার, ক্রিসপি রেস্তোরাঁর মালিক আজিজুলকে ৫০ হাজার ও নরসিংদী কাবাবের ব্যবস্থাপক অপু তালুকদারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গত এক মাসে ফুড জোনের রেস্তোরাঁগুলোয় খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার বিষয়ে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আজ অভিযান চালানো হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসান বাইট রেস্তোরাঁর মালিক দূর্জয় মিয়া বলেন, তিনি নতুন ব্যবসায়ী। ছয় মাস আগে রেস্তোরাঁটি চালু করেছেন। কিছু ভুল হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন হবে না। রেস্তোরাঁ পরিচালনার আগে খাবারের নিরাপত্তা বিষয়ে কোনো প্রশিক্ষণ বা পড়াশোনা করেছিলেন কি না, জানতে চাইলে তিনি করেননি বলে জানান।

অভিযানে জরিমানার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম না করার প্রতিশ্রুতি দেন সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁর মালিক ও ব্যবস্থাপকেরা।