
পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুন বলেছেন, মব সৃষ্টি করে নিরপরাধ নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের গ্রেপ্তার করা হলে গণ-আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
ওই পোস্টে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নুরুল হক নুরকে উদ্দেশ করে হাসান মামুন লেখেন, নিজেদের ঘরে নিজেরাই আগুন দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ফাঁসিয়ে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কৌশল পুরোনো ও অকার্যকর।
একই রাতে দশমিনা উপজেলায় ঘোড়া প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নুরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন হাসান মামুন। তিনি অভিযোগ করেন, নুরুল হক বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিকে প্রভাবিত করে তাঁকে এবং স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের বহিষ্কার করিয়েছেন এবং স্থানীয় কমিটিগুলো ভেঙে নতুন কমিটি গঠন করিয়েছেন। এ ছাড়া আচরণবিধি ভঙ্গ করে প্রচারণা চালানো, তাঁর বিরুদ্ধে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়া, কর্মী-সমর্থকদের মারধর এবং নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলার অভিযোগও তোলেন তিনি। পরে উল্টো তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন।
বিএনপির এই সাবেক নেতা বলেন, এসব বিষয়ে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ করলে কমিটি নুরুল হককে শোকজ করে। পরে তাঁকেও (হাসান মামুন) শোকজ করা হয়, যা প্রতিপক্ষকে খুশি করার জন্য করা হয়েছে।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে হাসান মামুন বলেন, প্রশাসন যদি মবের চাপে পড়ে তাঁর নেতা-কর্মী বা সাধারণ ভোটারদের অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন বা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে—পোস্টে সেটিই বোঝানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে নুরুল হকের নির্বাচনী সমন্বয়ক আবু নাঈম বলেন, ‘আমাদের প্রার্থী উদ্বেগের জায়গা থেকে সংবাদ সম্মেলন করে যৌক্তিক দাবি তুলেছেন; কিন্তু হাসান মামুন সংবাদ সম্মেলনে যা বলেছেন, তা তাঁর ব্যক্তিগত ও মনগড়া বক্তব্য। বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।’
প্রসঙ্গত, গতকাল বিকেলে পটুয়াখালী-৩ আসনে (গলাচিপা-দশমিনা) বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক (নুর) বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হাসান মামুন ও তাঁর সমর্থকেরা ধারাবাহিক হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভয়ভীতির দেখানোর অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় নির্বাচনী এলাকায় সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হুঁশিয়ারি দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথাও বলেন।