মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চারটি দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। শুক্রবার দুপুরে সদর উপজেলার মস্তফাপুর গোলচত্বর এলাকায়
মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চারটি দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। শুক্রবার দুপুরে সদর উপজেলার মস্তফাপুর গোলচত্বর এলাকায়

মাদারীপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় অর্ধশত হাতবোমা বিস্ফোরণ, ভাঙচুর ও লুটপাট

মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দিনদুপুরে অন্তত অর্ধশত হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটেছে। আজ শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার মস্তফাপুর গোলচত্বর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে সকাল ১০টার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষে জড়ায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মস্তফাপুর গোলচত্বর এলাকার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য হাবিব হাওলাদার, ইদ্রিস হাওলাদারের সঙ্গে শামচু সরদার ওরফে কোপা শামচুর আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি একটি মারামারির ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন শামচু। বৃহস্পতিবার বিকেলে মস্তফাপুর ইউনিয়নের ঢালীবাড়ি এলাকার আবিত ঢালী নামের এক যুবককে মারধর করেন শামচুর অনুসারীরা। এরপর ওই দিন সন্ধ্যায় ঢালীবাড়ি, আমবাড়ি এলাকার লোকজন হক সরদারের নেতৃত্বে শামচু সরদারের লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়।

আজ সকালে ঢালী বংশের সঙ্গে হাবিব হাওলাদার, ইদ্রিস হাওলাদারের লোকজন একত্র হয়ে শামচু সরদারের লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। এ সময় উভয় পক্ষ নিজেদের আধিপত্য দেখাতে অন্তত অর্ধশত হাতবোমা নিক্ষেপ করে পুরো মস্তফাপুর গোলচত্বরে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এ সময় শামচু সরদারের মামা আনসার খানের নেতৃত্বে মস্তফাপুর গোলচত্বরে থাকা শাহীন হাওলাদারের মুঠোফোন ও ইলেকট্রনিকের দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এ সময় পাশের রাকিবুল ইসলামের বিরিয়ানির দোকান, হাবুল ও লাল চান ব্যাপারীর পুরির দোকান, আলাউদ্দিন হাওলাদারের মুদিদোকানেও ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। উভয় পক্ষের সংঘর্ষে মস্তফাপুর ইউনিয়নের আমবাড়ি এলাকার ইউসূফ ঢালীসহ ঢালীবাড়ির পাঁচটি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এ সময় ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কে প্রায় আধা ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। দেখা দেয় দীর্ঘ যানজট।

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী শাহীন হাওলাদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার দোকানের শাটার কুপিয়ে ভেঙে সব লুটপাট করে নিয়ে গেছে। একটা মোবাইলও নাই। সব লুটপাট করে নিয়ে গেছে শামচুর লোকজন। আমার ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়ে গেছে। অথচ আমি কোনো পক্ষের লোক না। এই হামলায় সব শেষ হয়ে গেল।’

মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চারটি দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়

বিরিয়ানির দোকানি রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বাড়ি বরিশাল। এখানে ব্যবসা করি। আমার দোকানের সঙ্গে কিসের শত্রুতা জানি না। কিন্তু ওরা আমার দোকানে সব ভেঙেচুরে সব শেষ করে দিছে। দোকানের ক্যাশে থাকা ৭০ হাজার টাকাও নিয়ে গেছে। আমার সব শেষ।’

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হারুণ মাতুব্বর নামের একজন প্রথম আলোকে জানান, হঠাৎ দুই পক্ষের উত্তেজনার মধ্যে বৃষ্টির মতো বোমা নিক্ষেপ শুরু হয়। অন্তত অর্ধশত বোমা বিস্ফোরণে চারপাশে ধোঁয়ায় কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। শ খানেক বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দোকানপাট ভাঙচুর শুরু করে। ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি হয়। এমনকি কিছু সময়ের জন্য ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে আহত হন অন্তত ছয়জন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনকে উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, মস্তফাপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র সরদার ও হাওলাদার বংশের কোন্দল দীর্ঘদিনের। নতুন করে ঢালীরা হাওলাদার বংশে যোগ দিয়ে শামচু সরদারের লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে থানা–পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।