রংপুর নগরের সাতমাথা পেরিয়ে হারাগাছ পৌরসভার দিকে কিছু দূর এগোলে চোখে পড়ে টিনের চালার ছোট ছোট ঘর। ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের এই স্থান একসময় নাছনিয়া বিল নামে পরিচিত ছিল। এখন মানুষ নাছনিয়া বস্তি হিসেবে বেশি চেনেন। ২০১০ সালে এক একর সরকারি জমিতে রাতারাতি গড়ে বস্তিটি গড়ে ওঠে। এখানে ১৯৫টি পরিবারের হাজারের কাছাকাছি মানুষ বসবাস করেন।
বস্তির উত্তর দিকে গলির সামনে দুপুরে ক্রেতাশূন্য চা-পানের দোকানে বসে ছিলেন মোসলেমা বেগম (৬০)। গ্রামের বাড়ির কথা জিজ্ঞেস করতেই বললেন, ‘বাড়ি তিস্তা নদীত আছে (বিলীন) বাবা। নদী ভাঙ্গি এই দিক আসছি।’ মোসলেমার বাড়ি ছিল কুড়িগ্রামের রাজারহাটের ডাংরার হাটে। কিন্তু তাঁর রংপুরে আসার কারণ শুধু নদীভাঙন নয়। বললেন, ‘খুব কষ্ট আছিল। তোমার চাচা (স্বামী) এখানে আসি রিকশা চালাইছিল। তা-ও ২০-৩০ বছর হবে।’
নাছনিয়া বস্তি রংপুর সিটি করপোরেশনের ৬৫টি বস্তির একটি। এখানকার পুরুষেরা রিকশা-ভ্যানচালক, শ্রমিক, হকার ও ক্ষুদ্র দোকানদার। নারীরা মৌসুমে কৃষিকাজ করেন। তাঁরা কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা ও নীলফামারী থেকে এসেছেন। মূলত দারিদ্র্য, নদীভাঙন ও কর্মসংস্থানের খোঁজে তাঁরা গ্রাম ছাড়েন। কিন্তু দারিদ্র্য তাঁদের ছাড়েনি।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ খানা আয়-ব্যয় জরিপে এই দরিদ্র মানুষের অর্থনীতির একটা পরিসংখ্যান পাওয়া যায়। বিবিএসের তথ্যে রংপুর বিভাগের সামগ্রিক দারিদ্র্যে উন্নতি হলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নগর-দারিদ্র্যে। বিবিএসের তথ্যমতে, জাতীয় পর্যায়ে দারিদ্র্যের হার ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। এর মধ্যে গ্রামীণ দারিদ্র্য ২০ দশমিক ৫ শতাংশ, শহর বা নগর-দারিদ্র্য ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ। রংপুর বিভাগের শহরগুলোতে এ হার ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ, যা নগর-দারিদ্র্যের হারে ৮ বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। অর্থাৎ রংপুর বিভাগের শহরগুলোতে বসবাসকারী প্রতি তিনজনের একজন দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন। যদিও বিভাগের সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ।
দারিদ্র্যের ধরন বদলেছে। আগে ক্ষুধার দারিদ্র্য ছিল। এখন পুষ্টির দারিদ্র্য দেখা যাচ্ছে।উত্তম দাস, জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক, ওয়ার্ল্ড ভিশন
বিবিএসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিভাগওয়ারি শুধু রংপুর বিভাগে গ্রামের চেয়ে শহরে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেশি। বরিশাল বিভাগে গড় দারিদ্র্যের হার ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ। কিন্তু সেখানে নগর-দারিদ্র্যের হার ২১ দশমিক ৩ শতাংশ। সবচেয়ে কম নগর-দারিদ্র্য খুলনায়—৯ দশমিক ৯ শতাংশ। এ ছাড়া ঢাকায় ১৪ দশমিক ৩, চট্টগ্রামে ১১ দশমিক ৩, সিলেটে ১৪ দশমিক ৪, রাজশাহীতে ১৪ দশমিক ৯ ও ময়মনসিংহে ১৬ শতাংশ।
রংপুর বিভাগের দারিদ্র্য ও উন্নয়ন নিয়ে খোঁজ রাখেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক সাইফুদ্দীন খালেদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদী বড় একটা ‘ফ্যাক্টর’। নদীভাঙন, খরা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যাঁরা হয়তো দরিদ্র ছিল না, তাঁরা নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে গেছেন। গত কয়েক বছরে তাঁদের জন্য তেমন কোনো সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, যাতে তাঁরা আগের অবস্থায় ফিরতে পারেন। এ জন্য মাথা গোঁজার ঠাঁই কিংবা তিন বেলা খাওয়ার তাগিদে শহরকেন্দ্রিক চিন্তাভাবনা ছাড়া তাঁদের আসলে বিকল্প নেই।
নতুন নতুন বস্তি গড়ে উঠছে
২০১২ সালে রংপুর সিটি করপোরেশন হয়। বিবিএসের জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, ২০৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ নগরে মোট জনসংখ্যা ৭ লাখ ৮ হাজার ৪৩২। তবে বেসরকারি হিসাবে তা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। বিবিএসের ২০২২ সালের তথ্যমতে, রংপুর জেলায় গ্রাম ও শহরে জনসংখ্যার হার যথাক্রমে ৬৭ দশমিক ৪৫ ও ৩২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। ২০১১ সালে গ্রামে ৮৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ ও শহরে ১৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ ছিল।
সিটি করপোরেশনের তথ্য বলছে, কয়েক বছর আগে নগরে বস্তি ছিল ৪৫টি। পরে বস্তির সংখ্যা আরও ২০টি বেড়েছে। বর্তমানে ৬৫টি বস্তিতে ১৯ হাজার পরিবারের প্রায় ৬২ হাজার জন বসবাস করেন।
২২ এপ্রিল সকালে নগরের ১৭ নম্বর গাইবান্ধাটারী বস্তিতে গিয়ে দেখা যায়, বস্তির মধ্যে কেউ পাকা বাড়ি করেছেন। কেউ ভাড়াবাড়িতে থাকেন। এখানকার বাসিন্দা আবদুস সামাদ (৮৯) বললেন, তাঁর বাড়ি ছিল কুড়িগ্রামের থেতরাইয়ে। ১৯৯৪-৯৫ সালের দিকে তাঁরা চার ভাই পরিবারসহ এখানে আশ্রয় নেন। তাঁর ভাষ্য, ‘১৮ বার তিস্তায় বাড়ি ভাঙার পর ১৯ বারে আসছি। গরুর ঘাস কাটি প্যাট চালাইছি।’
জাহানারা বেগম নামের এক নারী জানালেন, তাঁর বাড়ি ছিল গাইবান্ধা সদরের কামারকানিতে। ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে সব হারিয়ে এখানে আসেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ৭। এখন ৬২ বছর। নদীভাঙনে গাইবান্ধার অনেক মানুষ এখানে আসায় বস্তিটির নাম গাইবান্ধাটারী হয়েছে বলে তিনি জানান।
গাইবান্ধাটারী বস্তি থেকে বের হয়ে উত্তরে কয়েক শ গজ সামনে নিচু জমিতে ৪৫ থেকে ৫০টি টিনের কাঁচা ঘরে দাস সম্প্রদায়ের বাস। রাস্তার ধারে গল্প করছিলেন কয়েকজন নারী। তাঁদের একজন জানালেন, এই জমির পাশে নিজস্ব জমিতে তাঁদের বাড়ি ছিল তিন বছর আগে। কিন্তু জমি হারিয়ে তাঁরা ভাড়া করা জায়গায় ঘর করেছেন। কোনোমতে থাকা যায়, এমন একটি ঘরের ভাড়া বিদ্যুৎ বিলসহ দেড় হাজার টাকা।
স্থানীয় মুদিদোকানি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আগে বস্তি বলতে আলমনগরের আটকে পড়া বিহারিদের ইস্পাহানি ক্যাম্প, রবার্টসনগঞ্জ, লালবাগের চুড়িপট্টি, রেললাইনের দুই ধার, হনুমানতলার সুইপার কলোনিকে চিনতেন। এখন পুরো শহরের চারপাশে নতুন নতুন বস্তি গড়ে উঠছে।
দারিদ্র্যের ধরন বদলেছে
রংপুরে দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) কাজ কম। অধিকাংশ ক্ষুদ্রঋণের পাশাপাশি সদস্যদের নিয়ে সামাজিক কিছু কাজ করে। দরিদ্র মানুষকে নিয়ে কাজ করে, এমন তিনটি এনজিওর প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তাঁরা বলছেন, শুধু বস্তিগুলোতে দারিদ্র্য ব্যাপারটা এমন নয়। বরং সিটি করপোরেশনের বর্ধিত ১৮টি ওয়ার্ডে নাগরিকসেবা না পৌঁছানোয় তাঁরা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় অনেক পিছিয়ে। তাঁদের সম্পদের পরিমাণও খুব কম। অধিকাংশই রিকশা চালানো, দিনমজুরি, রাজমিস্ত্রির মতো অনানুষ্ঠানিক কাজ করে সংসার চালান।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ও বিশ্বব্যাংকের গবেষণার তথ্যমতে, দেশে নগর এলাকার কর্মসংস্থানের একটি বড় অংশই অনানুষ্ঠানিক। বিবিএসের শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী, রংপুর বিভাগে ৮২ দশমিক ৭৮ শতাংশ মানুষ অনানুষ্ঠানিক কর্মস্থানের সঙ্গে যুক্ত।
সিটি করপোরেশনের সাতটি ওয়ার্ডে শূন্য দারিদ্র্য ও শূন্য ক্ষুধা নিয়ে কাজ করছে বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ। সংস্থাটি গত বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ১৭, ১৮, ২৩, ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ২৯ হাজার ৪০৮ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করেছে। এতে তারা বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম, প্রতিবন্ধী, স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা, নিরাপদ পানি পান ও শিক্ষা থেকে ঝড়ে পড়ার তথ্য নিয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অন্তত দুটি সূচকে ঝুঁকিতে থাকা পরিবারের সংখ্যা ৯ হাজার ৩১৯। দুইয়ের অধিক সূচকে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার ১৯ হাজার ৯০২টি। একটিও সূচকের পর্যায়ে পড়ে না, এমন পরিবার মাত্র ৮৭টি।
ওয়ার্ল্ড ভিশনের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক উত্তম দাস প্রথম আলোকে বলেন, দারিদ্র্যের ধরন বদলেছে। আগে ক্ষুধার দারিদ্র্য ছিল। এখন পুষ্টির দারিদ্র্য দেখা যাচ্ছে। তাঁরা শূন্য থেকে পাঁচ বছরের শিশুর পুষ্টি ও বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ (জিএমপি) কার্ড করে দেখেছেন, ১০০ শিশুর মধ্যে ৬০ জনের সবকিছু স্বাভাবিক থাকে। বাকি ৪০ শিশুর ২০ জন মাঝারি অপুষ্টি ও ২০ শিশু মারাত্মক অপুষ্টিতে ভোগে। মাঝারি অপুষ্টিতে ভোগা শিশুকে সুষম খাবার ও যত্ন নিলে স্বাভাবিক হয়। কিন্তু যে তীব্র অপুষ্টিতে ভোগে, তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এই চিত্র প্রতি মাসে বদলাচ্ছে। নতুন নতুন পরিবার দারিদ্র্যের চক্রে আটকা পড়ছে।
সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ১৫ নম্বর ওয়ার্ড রংপুর-১ (সিটির একাংশ ও গঙ্গাচড়া) আসনে পড়েছে। রংপুর সিটি হলেও নগরায়ণের সুবিধাবঞ্চিত, গ্রামীণ জনপদই বলা চলে বলে মন্তব্য করলেন আসনটির জামায়াত-দলীয় সংসদ সদস্য মো. রায়হান সিরাজী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এখানকার দারিদ্র্য কমাতে সংসদের দাবি জানাবেন তিনি। একই সঙ্গে দরিদ্র মানুষের জন্য কোনো ধরনের সুবিধা নেওয়া যেতে পারে সে বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে তিনি আধা সরকারি (ডিও) পত্র দেবেন।
কর্মসংস্থানের অভাবই প্রধান কারণ
বিভাগের নগর-দারিদ্র্য নিয়ে এখানকার স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, এনজিও প্রতিনিধি এবং যাঁরা এ বিষয়ে খোঁজ রাখেন, তাঁদের অন্তত ১৫ জনের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তাঁরা বলছেন, নদীভাঙন উত্তরাঞ্চলের নগর-দারিদ্র্য সৃষ্টির একটি কারণ। তবে প্রধান কারণ নয়।
বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের আলট্রা-পুওর গ্র্যাজুয়েশন (ইউপিজি) কর্মসূচির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক শাহানা আখতার বলেন, কাজের জন্য নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও আশপাশের জেলার মানুষ রংপুর শহরে ভিড় করছেন। এতে শহরের মানুষের কাজের অভাবে পড়ে।
শাহানা আখতারের কথায় মিল পাওয়া যায় শহরের রিকশাচালক, ফেরিওয়ালা, পান দোকানদারসহ ক্ষুদ্র ব্যবসায় সম্পৃক্ত অনেকের সঙ্গে কথা বলে। পূর্ব গণেশপুরে ভাড়া থাকেন রিকশাচালক মহির আলী (৫০)। বাড়ি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর একতাবাজারে। বললেন, ‘বাড়িত যদি কাজ থাকিল হয়, বিদ্যাশ না খাটনু হয়।’
নগরের অনিয়ন্ত্রিত ইজিবাইকের পেছনেও কর্মসংস্থানের অভাবই কারণ বলে মনে করেন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইফুদ্দীন খালেদ। তাঁর মতে, নগরে প্রতিদিন হাজার হাজার ইজিবাইক চলছে। কিন্তু ইজিবাইকগুলোতে যাত্রী থাকে দুই-তিনজন। অর্থাৎ কাজের সংকটের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ উপায়হীন হয়ে ইজিবাইক ভাড়া নিয়ে রাস্তায় বের হচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ও বিশ্বব্যাংকের গবেষণার তথ্যমতে, দেশে নগর এলাকার কর্মসংস্থানের একটি বড় অংশই অনানুষ্ঠানিক। রংপুরের ক্ষেত্রে এ চিত্র আরও ভয়াবহ। বিবিএসের শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী, রংপুর বিভাগে ৮২ দশমিক ৭৮ শতাংশ মানুষ অনানুষ্ঠানিক কর্মস্থানের সঙ্গে যুক্ত।
নেই সরকারি কর্মসূচি
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি বলছেন, গত দুই অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) রংপুর সিটি করপোরেশনের বরাদ্দ শুন্য ছিল। এবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপির জন্য রংপুর সিটি করপোরেশনের জন্য১২টি নতুন প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এসব প্রকল্প মূলত অবকাঠামোভিত্তিক। তাতে দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কর্মসূচি নেই।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, বর্তমানে সিটি করপোরেশনে দরিদ্র মানুষের জন্য কোনো কর্মসূচি নেই। শুধু ইউএনডিপির অর্থায়নে ২০ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে হরিজনদের জন্য ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে চারটি ভবন নির্মাণাধীন।
সিটি করপোরেশনের সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. সেলিম মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা খুব কম সরকারি বরাদ্দ পেয়েছেন। ইউএনডিপি, জাইকার বিভিন্ন প্রকল্পসহ স্থানীয় এনজিও ইএসডিওর মাধ্যমে কিছু দরিদ্র মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটেছে। তবে এখন দরিদ্র লোক ও বস্তিবাসীর জন্য ফান্ড নেই।
সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে রংপুর সিটি করপোরেশনের জন্য যে ১২টি নতুন প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এসব প্রকল্প মূলত অবকাঠামোভিত্তিক। তাতে দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না।
গত ১৬ মার্চ রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব নেন মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব মাহফুজ উন নবী চৌধুরী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সিটি করপোরেশনে ৭০ শতাংশের বেশি নিম্ন আয়ের মানুষ আছেন। এই মানুষগুলোর কর্ম উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। বর্তমান সরকারের এ অঞ্চল নিয়ে কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপনের একটি পরিকল্পনা আছে। যাঁরা উদ্যোক্তা আছেন বা যাঁরা শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়তে চান কৃষিভিত্তিক, তিনি তাঁদের আহ্বান জানাচ্ছেন। রংপুর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তাঁদের সব রকম সহযোগিতা করা হবে।