জুলাই আন্দোলনে অংশ নিলে ছাত্রত্ব বাতিলের হুমকির অডিও ফাঁস, প্রক্টর সাময়িক বহিষ্কার

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রক্টরকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে
ছবি : সংগৃহীত

রাজশাহীতে নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটির প্রক্টরকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য মো. আনসার উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ওই শিক্ষকের নাম এ জে এম নূর-ই-আলম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও প্রক্টর। বিভিন্ন ফেসবুক আইডিতে গতকাল সোমবার বিকেলে তাঁর সঙ্গে এক শিক্ষার্থীর কথোপকথন প্রকাশ হয়, যেখানে তিনি আন্দোলনে অংশ নিলে ছাত্রত্ব বাতিলের হুমকি দেন। তবে ওই অডিও এডিট করা বলে দাবি করেছেন ওই শিক্ষক।

গতকাল বিকেলে এক মিনিটের বেশি সময়ব্যাপী একটি কথোপকথন ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এরপর রাত সাড়ে আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নগরের চৌদ্দপাই এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন। তাঁরা রাস্তায় টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেন। দুই পাশে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে রাত সাড়ে ৯টার পর সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য উপস্থিত হন। রাত সোয়া ১০টার দিকে তাঁর আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেন। তাঁরা আজ দুপুর ১২টার মধ্যে ওই শিক্ষকের অপসারণের আলটিমেটাম দিয়ে চলে যান।

উপাচার্য স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়েছে, আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ জে এম নূর-ই-আলমের বিরুদ্ধে তাঁর বিভাগের শিক্ষার্থীদের আনিত অভিযোগ ও উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁকে আজ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলো। বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য তিনজন ছাত্র প্রতিনিধিসহ সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ওই শিক্ষকের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য মো. আনসার উদ্দীন বলেন, শিক্ষার্থীরা চেয়েছিলেন আজই প্রক্টরকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করতে হবে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। ওই ফোনালাপ ছাড়াও আরও কিছু অভিযোগ এসেছে। সেগুলোর বিষয়ে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।

প্রক্টর নূর-ই-আলমের সঙ্গে এক শিক্ষার্থীকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি যাঁকে নিয়ে চিন্তা করতেছেন বা আমিও চিন্তা করতেছি, মিঠুনটাও ছিল স্যার। তো স্যার এখন দেখা যাচ্ছে, এ রকম যদি চলতে থাকে, তাহলে তো আপনি যেভাবে বা আমি যেভাবে আছি, একটু সমস্যা স্যার। এখন এখানে কী করা যায়?’ এর জবাবে শিক্ষক বলতে থাকেন, ‘ছাত্রদের ক্ষমতা বেশি, না প্রশাসনের ক্ষমতা বেশি, সেটা দেখা যাবে। ছাত্রদের ক্ষমতা না প্রশাসনের ক্ষমতা দেখি। আন্দোলন করুক না ওরা, আমরাও তো চাই যে আন্দোলন করুক।’ এর জবাবে ওই শিক্ষার্থী ‘জি স্যার, জি স্যার’ বলে সায় দেন।

পরে প্রক্টর বলতে থাকেন, ‘আন্দোলন করুক। আমরা শক্ত প্রতিপক্ষ পজিশন, একদম স্ট্রিক্ট পজিশনে যাব। ওই যে ফরেন ইউনিভার্সিটি, অন্যান্য ইউনিভার্সিটির ন্যায়। তো এখানে যারা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে, প্রত্যেকের ছাত্রত্ব বাতিল করব। তারপর তারা আন্দোলন করে, রিট করে, মামলা করে কীভাবে ছাত্রত্ব ফিরিয়ে নিয়ে আসে, আমরা সেটা দেখব। আমাদের এখন, আমরা খুব স্ট্রিক্ট। এটা স্ট্রিক্ট কেন হচ্ছি? যে আমাদের ৫০ থেকে ৬০টা স্টুডেন্ট গেলে আমাদের কোনো যায় আসে না। ঠিক আছে? বরং ৫০ থেকে ৬০টা স্টুডেন্ট গেলে আমাদের কোনো যায় আসে না।’

অভিযোগের বিষয়ে এ জে এম নূর আলম বলেন, এই অডিওটা এডিট করা। তিনি প্রক্টর হয়েছেন এ বছর ফেব্রুয়ারিতে। বরং তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শুরু থেকে সক্রিয় ছিলেন ছাত্রদের পক্ষে। সে হিসেবে তিনিও জুলাই যোদ্ধা। এ কারণে তাঁকে প্রক্টরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি এই দায়িত্ব পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা আনেন। এতে কিছু শিক্ষার্থী সংক্ষুব্ধ হন। সেখান থেকেই তাঁরা এই আন্দোলন করছেন।