খুলনা–ঢাকা পথে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নিচ্ছে কিছু কিছু বাস

আন্তজেলায় চলাচলকারী বাসগুলোতে প্রায় নির্ধারিত হারেই ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল, খুলনা, ৬ আগস্ট
ছবি: সাদ্দাম হোসেন

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর সরকার যে হারে বাসের ভাড়া বাড়িয়েছে, খুলনায় তা সব বাসে মানা হচ্ছে না। কয়েকটি বাস নির্ধারিত ২২ শতাংশ হারে ভাড়া বাড়ালেও কয়েকটি বাসে তারও বেশি নিতে দেখা গেছে। তবে আন্তজেলায় চলাচলকারী বাসগুলোতে প্রায় নির্ধারিত হারেই ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

পরিবহনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, খুলনা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা পর্যন্ত দূরত্ব অনুযায়ী ভাড়া বাড়ার কথা ৮২ টাকার মতো। শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় পরিবহনমালিকদের সঙ্গে বসে ভাড়া বাড়ানো হয় কিলোমিটার প্রতি ৪০ পয়সা করে। আগে যেখানে দূরপাল্লার পরিবহনের ভাড়া আসত কিলোমিটার প্রতি ১ টাকা ৮০ পয়সা, সেখানে এখন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২ টাকা ২০ পয়সা করে।

নগরের বিভিন্ন বাস কাউন্টার ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি ভাড়া বাড়িয়েছে গ্রীন লাইন পরিবহন। কোম্পানিটির বিজনেস শ্রেণি ও ডাবল ডেকারের ভাড়া আগে ছিল ১ হাজার ২০০ টাকা। ২০০ টাকা বাড়িয়ে সেটি করা হয়েছে ১ হাজার ৪০০ টাকা। ইকোনমি শ্রেণির ভাড়া ৭৫০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা বাড়িয়ে ৯০০ টাকা করা হয়েছে।

জানতে চাইলে রয়েল মোড় কাউন্টারের টিকিট বিক্রয় কর্মকর্তা ফয়সাল আরেফিন বলেন, গ্রীন লাইন পরিবহনের সবকিছুই অনলাইনভিত্তিক। শুক্রবার রাতে তেলের দাম বাড়ানো হলেও শনিবার কোনো ভাড়া বাড়ানো হয়নি। শনিবার রাতে সরকারের সঙ্গে বসে ভাড়া নির্ধারিত হওয়ার পর মালিকপক্ষ সকালে ওই ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছে। সেই হিসেবে যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

দুপুর ১২টা পর্যন্ত এসি বাসের ভাড়া নির্ধারণ করতে পারেনি সোহাগ পরিবহন লিমিটেড। তবে নন–এসি বাসের ভাড়া ৮০ টাকা বাড়িয়ে ৬৮০ টাকা করেছে পরিবহনটি। ফাল্গুনী পরিবহনের নন–এসিতেও ৮০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসে এসি ও নন–এসি বাসে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে ১০০ টাকা করে।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর প্রায় এক মাস আগে চালু হয়েছে শ্যামলী এন আর ট্রাভেলস। ওই পরিবহনে এসি ও নন–এসি বাসে ১০০ টাকা করে ভাড়া বাড়িয়েছে।
কাউন্টারগুলোর টিকিট বিক্রেতারা বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সমন্বয় করে ওই ভাড়া বাড়িয়েছে মালিকপক্ষ।

আন্তজেলা বাসেও কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ২০ পয়সা করে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। সেই হিসাবে কোনো কোনো বাসে নির্ধারিত ভাড়া নিলেও কম দূরত্বে চলাচলকারী বাসগুলো যাত্রীদের কাছ থেকে কিছুটা কম ভাড়া আদায় করছে।

খুলনা নগরের সোনাডাঙ্গা আন্তজেলা বাস টার্মিনাল থেকে খুলনা ও এর আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার ১৮টি রুটে বাস যাতায়াত করে। খুলনা-কুষ্টিয়ার দূরত্ব ১৫৬ কিলোমিটার। খুলনা থেকে কুষ্টিয়ার ভাড়া ছিল ২৮০ টাকা। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর শনিবার সেই ভাড়া নেওয়া হচ্ছিল ৩২০ টাকা করে। আজ রোববার সকাল থেকে ২ টাকা ২০ পয়সা করে ভাড়া বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩৪৩ টাকা। কাউন্টারে যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৩৪০ টাকা করে।

খুলনা থেকে পাইকগাছা উপজেলার দূরত্ব ৬৫ কিলোমিটার। ভাড়া নেওয়া হতো ১১৫ টাকা। নতুন ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১৪০ টাকা করে। খুলনা থেকে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার দূরত্ব ৫২ কিলোমিটার। আগে ভাড়া ছিল ৯০ টাকা, এখন ১১০ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

খুলনা মোটর বাস মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল গফ্ফার বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, সরকার নির্ধারিত হারেই ভাড়া বাড়িয়েছেন বাসমালিকেরা। কেউ যদি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেন, সে দায়িত্ব ওই বাসমালিকের।