বগুড়ার শেরপুরে অবরোধ চলাকালে বিস্ফোরণ ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বগুড়া জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও বগুড়া-৫ আসনের (শেরপুর-ধুনট) সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজসহ ৬৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও অনেককে।
গতকাল বুধবার রাতে শেরপুর থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) হোসেন আলী বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে আছেন শেরপুর টাউন পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আবু সুফিয়ান। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর থানার এসআই রামজীবন ভৌমিক।
শেরপুর টাউন পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আবু সুফিয়ান প্রথম আলোকে বলেন, আজ বৃহস্পতিবার ভোরে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহার নামীয় আসামি জাহিদুল ইসলামকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বাড়ি উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের শেরুয়াদহ পাড়া গ্রামে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মামলায় গ্রেপ্তার জাহিদুল ইসলাম ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বলে জানিয়েছেন উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার পাশে বেলা সোয়া ১১টায় বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সরকারি কাজে বাধাদান, ক্ষতিসাধন, হুমকি, গুরুতর ও সাধারণ জখম করার অপরাধে মামলা করা হয়েছে। মামলার আসামিদের মধ্যে আছেন গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের ছেলে আসিফ সিরাজ রব্বানী (সানভি), উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম।
শেরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপির এক দফা দাবি আদায়ের আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে শেরপুর থানায় গতকাল রাতে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। ষড়যন্ত্র করে তাঁদের দলের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ও তাঁর ছেলে শেরপুর উপজেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য আসিফ সিরাজ রব্বানীসহ আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গতকাল বুধবার তাঁদের শান্তিপূর্ণ অবরোধ মিছিলের সময় আওয়ামী লীগ হামলা চালায় ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। অবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবু কুমার সাহা প্রথম আলোকে বলেন, গতকালের ঘটনায় এসআই হোসেন আলীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। পরে তাঁরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।