সাতক্ষীরা জেলার মানচিত্র
সাতক্ষীরা জেলার মানচিত্র

সাতক্ষীরায় ভূমিকম্প

‘হঠাৎ দোতলা বাড়ি দুলে উঠল, পরিবারের সবাই দ্রুত নিচে নেমে আসে’

হঠাৎ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠে সাতক্ষীরা। আতঙ্কে ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন মানুষজন। তাঁদের অনেকেই জানান, বেশ শক্ত ঝাঁকুনি অনুভব করেছেন। শুক্রবার বেলা ২টা ৫২ মিনিটে কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এ ভূমিকম্পে জেলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৪। উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরা শহর থেকে দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে আশাশুনি উপজেলায়।

আলাউদ্দিন হোসেন নামের এক বাসিন্দা বলেন, জুমার নামাজ শেষে হঠাৎ শক্ত ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। এতে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন এমন ঝাঁকুনি অনুভব করেননি বলে দাবি করেছেন তিনি।

কুল্যা বায়তুল আমান জামে মসজিদের মুসল্লি রবিউল আলম ও তুহিন গাজী জানান, নামাজের সময় পুরো মসজিদ কেঁপে ওঠে। মুসল্লিরা দ্রুত বাইরে খোলা স্থানে চলে যান। বোদাটা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মুসল্লি মাসুদ রানা ও সাদিক আনোয়ারও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা বলেন। তবে কোথাও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

আশাশুনি সদরের বাসিন্দা আবদুল আলী বলেন, ‘হঠাৎ দোতলা বাড়ি দুলে উঠল। পরিবারের সবাই দ্রুত নিচে নেমে আসে।’

সুন্দরবন-সংলগ্ন হরিনগর গ্রামের বাসিন্দা পূর্বপদ মল্লিক জানান, দুপুরের দিকে হঠাৎ ভূমিকম্পে তাঁর দোতলা বাড়িটি দুলে ওঠে। বাড়ির লোকজন যে যার মতো নিচে নেমে ফাঁকা জায়গায় গিয়ে দাঁড়ান। এ সময় নারী ও শিশুরা কান্নাকাটি শুরু করে।

সাতক্ষীরা শহরের জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, কম্পন শুরু হতেই তিনি শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যান। ভয়ে দীর্ঘক্ষণ তাঁর বুক ধড়ফড় করছে।

মিনি মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম বলেন, দোকানে কাজ করার সময় হঠাৎ ঝাঁকুনি অনুভব করে তিনিও বাইরে চলে আসেন।

সাতক্ষীরা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী বলেন, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল আশাশুনি এলাকায়। এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৪। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান ইমু বলেন, ভূমিকম্পে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন। তবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।