কক্সবাজারের চকরিয়ায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের শাহ ওমর মাজার–সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত যুবকের নাম মোহাম্মদ মুজিব (৪৫)। তিনি কাকারা ইউনিয়নের কসাইপাড়া এলাকার মৃত ফকির আহমদের ছেলে। একই ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। তাঁরা হলেন একই এলাকার মৃত মো. কালুর ছেলে মো. মোজাম্মেল (৪৫) ও একই ইউনিয়নের লোটনী এলাকার গোলাম কাদেরের ছেলে মোহাম্মদ খোরশেদ ( ৪০)। তাঁরা চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এ ঘটনায় আটক যুবকের নাম মোহাম্মদ আরিফ (২৮)। তিনি একই এলাকার মোহাম্মদ জহিরের ছেলে। পুলিশের ধারণা, মুজিবকে হত্যার পর আরিফ ডাকাতি বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে প্রচার করেছেন। তাঁর কথাবার্তায় অসংগতি থাকায় তাঁকে আটক করা হয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গতকাল বিকেলে ইফতারের কথা বলে মুজিবকে বাড়ি থেকে ডেকে নেন আরিফ। এরপর তাঁরা ইফতার করতে উপজেলার শাহ ওমর মাজারে যান। সেখান থেকে রাত আটটার দিকে তাঁরা ফেরেন। পথে উপজেলার সেবাখোলা ডুমচিতা পুকুর–সংলগ্ন সড়কে মোহাম্মদ মুজিবকে হাত–পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর ওই এলাকার সড়কের পাশের একটি তামাকখেতে তাঁর লাশ ফেলা হয়।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় আরিফসহ আরও কয়েকজন জড়িত। হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনা আড়াল করতে ডাকাতির নাটক সাজানো হয়। সড়ক দিয়ে যাওয়া আরও দুজন পথচারীকেও জিম্মি করা হয়। এরপর তাঁদের হাত-পা বেঁধে তামাকখেতে ফেলে দেওয়া হয়। পরে আরিফ গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের জানান, তাঁরা ডাকাতের কবলে পড়েছেন। তিনি কোনোরকমে পালিয়ে এলাকায় এসেছেন। এরপর স্থানীয় বাসিন্দারা গিয়ে মুজিবসহ তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এর মধ্যে মুজিবকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। শরীরের কোথাও আঘাতের চিহ্ন নেই। ধারণা করা হচ্ছে, মুজিবকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
ওসি মনির হোসেন বলেন, ‘আরিফ নিজেকে বাঁচাতে ডাকাতির ঘটনাটি প্রচার করেছেন। আরিফের সঙ্গে মুজিবের পূর্ববিরোধ ছিল। এই বিরোধের জেরে আরিফের হাতের একটি আঙুলও কাটা পড়ে। আরিফ এই শত্রুতাকে স্বাভাবিক সম্পর্কে নামিয়ে আনার পর হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।’