টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নিখোঁজের তিন দিন পর যুবদল নেতার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মির্জাপুর উপজেলার কুড়াতলী এলাকার একটি ইটভাটার পাশ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ইউসুফ খান মির্জাপুর উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি একই ইউনিয়নের ঘাগড়াই গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ এ ঘটনায় ওই এলাকার রিজন সিকদার ও হানিফ সিকদার নামে দুজনকে আটক করেছে।
পরিবার জানায়, ইউসুফ স্থানীয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে মাটি কিনে ট্রাকে করে অন্যত্র বিক্রি করতেন। গত শনিবার রাত ৯টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে ব্যবসার কাজে বের হন। এরপর তিনি আর ফেরেননি।
ইউসুফের বোন পান্না আক্তার জানান, ইউসুফ তাঁদের বাড়ির পাশের এক ব্যক্তির জমি কেনেন। রাতে তিনি মাটি বিক্রির জন্য বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। নিখোঁজের পরদিন (রোববার) সকাল সাতটার দিকে তাঁর ভাইয়ের ফোন থেকে তাঁদের কাছে কল আসে। অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, মাটির ব্যবসা করায় পুলিশ তাঁকে ধরে নিয়ে গেছে। কিন্তু থানায় গিয়ে তাঁর সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় পান্না আক্তার মির্জাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, শনিবার রাতে ইউসুফের মাটি বহনকারী একটি ট্রাকের ধাক্কায় হানিফ সিকদার নামে এক ব্যক্তির একটি গাছ ভেঙে যায়। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
মাটি বহনকারী এক ট্রাকচালক জানান, শনিবার ভোর চারটার দিকে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় ইউসুফের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। তিনি ট্রাকচালককে সাবধানে গাড়ি চালানোর জন্য বলেন। এ সময় ইউসুফের সঙ্গে দাড়িওয়ালা এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে ছিলেন। তবে ট্রাকচালক তাঁকে চিনতে পারেননি।
পুলিশ জানায়, আজ সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে কুড়াতলী এলাকার আলমাছ মিয়া নামে এক ব্যক্তির ইটভাটার পাশ থেকে তল্লাশি চালিয়ে ইউসুফের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করা হয়েছে।
মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক রাহাদুজ্জামান আকন্দ জানান, পুলিশ লাশের অবস্থান শনাক্ত করে। লাশটি ইটভাটার পাশে ইটের ছোট ছোট টুকরা ও মাটি দিয়ে চাপা দেওয়া ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। তবে কী কারণে ও কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা ময়নাতদন্ত ও আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যাবে।