আজ সকালে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১০ থেকে ১২ জন নেতা-কর্মী পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন
আজ সকালে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১০ থেকে ১২ জন নেতা-কর্মী পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন

দশমিনায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলে দোয়া-মোনাজাত, পরে ভাঙচুর করে তালা দিল ছাত্রদল

১৮ মাস তালাবদ্ধ থাকার পর পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করেন আত্মগোপনে থাকা কয়েকজন নেতা-কর্মী। পরে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সেখানে গিয়ে ভাঙচুর চালিয়ে আবার তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সোমবার সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১০ থেকে ১২ জন নেতা-কর্মী উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে সেটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও দলটির প্রধান শেখ হাসিনার নামে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় তাঁরা দলীয় স্লোগানও দেন।

খবর পেয়ে উপজেলা ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা সেখানে পৌঁছে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভ চলাকালে ‘জিয়ার সৈনিক এক হও, লড়াই করো’; ‘কে বলেছে জিয়া নাই, জিয়া সারা বাংলায়’; ‘খালেদা জিয়ার অ্যাকশন, তারেক জিয়ার অ্যাকশন’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁরা কার্যালয়ের ভেতরে ভাঙচুর চালিয়ে আবার তালা ঝুলিয়ে দেন।

এ বিষয়ে দশমিনা উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ হোসেন হাওলাদার বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল মনে করে তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে কার্যালয় খোলেন। কিন্তু উপজেলা ছাত্রদল-যুবদলের কর্মীরা এসে তাঁদের প্রতিহত করে অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। এরপর পুলিশ তাঁদের আটক করতে বাসাবাড়িতে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।

ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সেখানে গিয়ে ভাঙচুর চালিয়ে আবার তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন

ভাঙচুরের বিষয়টি স্বীকার করে দশমিনা উপজেলা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম কিবরিয়া করিম বলেন, ‘আজ আওয়ামী লীগের কিছু কর্মী কার্যালয় খুলে কার্যক্রম শুরু করেন। বিষয়টি উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শাহ আলম শানু ও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বশারকে জানানো হয়। এরপর তাঁদের অনুমতি নিয়ে কয়েকজন নেতা-কর্মী ঘটনাস্থলে গিয়ে যুবলীগ-ছাত্রলীগকে প্রতিহত করি।’

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বশারের মুঠোফোন নম্বরে কল দেওয়া হয়। তিনি কলটি কেটে পরে নম্বরটি বন্ধ করে রাখেন।

উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শাহ আলম (শানু) বলেন, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলে অবস্থান নেওয়া উসকানিমূলক কাজ। তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে। তবে কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু শাহাদাত মো. হাসনাইন পারভেজ জানান, যেহেতু বর্তমানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, তাই কার্যালয় খুলে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে অভিযান চলছে।