
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় বিএনপির দলীয় কর্মসূচি থেকে ফেরার পথে হামলায় যুবদলের পাঁচজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার সীমাবাড়ি ইউনিয়নের বাঙালি নদীর পশ্চিম পাড়ে এ ঘটনা ঘটে। হামলার ঘটনায় স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের দায়ী করেছে বিএনপি।
হামলায় আহত ব্যক্তিরা হলেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আশরাফুদ্দৌলা মামুন (৩৫), শাহবন্দেগী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সোহেল রানা (২৫), শেরপুর শহর যুবদলের সদস্য সাব্বির আলম (৩৫), কুসুম্বি ইউনিয়নে যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক আবদুল বাছেদ (৩২) ও ভবানীপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাগর সরকার (৩০)। তাঁদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
উপজেলার সীমাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আফতাব হোসেন তালুকদার বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে গতকাল বিকেলে তাঁরা ইউনিয়নের বেটখৈর বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। সমাবেশ শেষ হয় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে। এরপর দলীয় নেতা-কর্মীরা মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। তাঁদের মোটরসাইকেল বাঙালি নদীর সেতু পার হয়ে সীমাবাড়ি বাজারের দিকে যাওয়ার সময় অতর্কিতভাবে স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হামলা করেন। এতে তাঁদের পাঁচ নেতা-কর্মী আহত হন।
হামলার সময় ঘটনাস্থলে থাকা বিএনপির দুজন কর্মী প্রথম আলোকে বলেন, মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় তাঁরা কোনো স্লোগান দিচ্ছিলেন না। শান্তিপূর্ণভাবেই যাচ্ছিলেন। হামলাকারীরা সংখ্যায় ২০-২৫ জন ছিলেন। তাঁদের সবার হাতে ছিল লাঠিসোঁটা ও লোহার রড। পরিকল্পিতভাবে হামলার উদ্দেশ্যে আগে থেকেই তাঁরা সেতুর পশ্চিম পাড়ে অবস্থান নিয়েছিলেন।
শেরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে সীমাবাড়ি ইউনিয়নে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করেছে। এ হামলায় বিএনপিকে কখনো সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকে পিছু হটাতে পারবে না।
শেরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, যে হামলার ঘটনা নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দোষারোপ করা হচ্ছে, তা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য। এমন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁদের কেউ জড়িত নন। সমাবেশকারীদের ওপর সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে এমনটি ঘটিয়ে থাকতে পারে।
শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সনাতন চন্দ্র সরকার বলেন, এ ঘটনায় আজ শুক্রবার বেলা ১১টা পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি।