
ফরিদপুরে গুজব ছড়িয়ে পিটুনিতে নিহত ট্রাকচালক হান্নান শেখের দুই বছরের মেয়ে মুসলিমার পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বোয়ালমারীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান তাঁদের বাড়িতে গিয়ে খেলনা, টাকা ও খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন।
নিহত হান্নান শেখের বাড়ি বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর গ্রামে। গত শুক্রবার ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় ট্রাকের ধাক্কায় সাতজন আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজনের পিটুনিতে ট্রাকচালক হান্নান শেখ নিহত হন।
আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইউএনও এস এম রকিবুল হাসান সাতৈর গ্রামের বাসিন্দা নিহত হান্নান শেখের বাড়িতে যান। তিনি সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা ছিলেন। তিনি শিশু মুসলিমা ও তার পরিবারের খোঁজ নেন। ইউএনও জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে মুসলিমার কাছে এসেছেন। তাকে লালন–পালনে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। এ সময় তিনি মুসলিমার দাদা শাহিদ শেখ ও দাদি নার্গিস বেগম হাতে খেলনা, টাকা ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।
এ সময় উপস্থিত সাতৈর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাফিউল আলম (মিন্টু) জানান, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ওই শিশুকে নিয়মিত সহযোগিতা করা হবে। এ সময় বোয়ালমারী উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মানষ বোস ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কারিজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও এস এম রকিবুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, তিনি আজ ২০ হাজার টাকা ও ১০ হাজার টাকার সমমূল্যে চাল, ডাল, শিশুখাদ্য, গুড়া দুধ, সুজি, আটাসহ বিভিন্ন শুকনা খাবার নিয়ে গিয়েছিলেন। এ ছাড়া ইউপি চেয়ারম্যানকে ওই পরিবারের জন্য প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার জন্য একটি কার্ড করে দিতে পরামর্শ দিয়েছেন। এ ছাড়া জেলা প্রশাসকও তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সাহায্য করবেন। পরিবারটি খুব নাজুক অবস্থায় রয়েছে। মুসলিমার সার্বিক অবস্থা জানিয়ে আজই তিনি প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে লিখিত নোট পাঠিয়েছেন।
ইউএনও এস এম রকিবুল হাসান বলেন, মুসলিমার জন্য স্থায়ীভাবে কী করা যায়, এ জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর ও মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের সহযোগিতা চাওয়া হবে। পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে এতিমখানায় দিতে রাজি নন। শিশুটিকে তার দাদা ও দাদির কাছে রেখে কীভাবে ভবিষৎ সুনিশ্চিত করা যায়, সেসব কিছু সরকার করবে।