মেহেরপুরের গাংনী পৌর শহরের একটি এতিমখানায় হাসান আলী (৯) নামের এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে মাদ্রাসার কক্ষ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত হাসান আলী গাংনী উপজেলার আযান গ্রামের বিপ্লব হোসেনের ছেলে। তার মা বেঁচে নেই। সে ওই এতিমখানায় থেকে পড়াশোনা করত।
এতিমখানার সুপারিনটেনডেন্ট মিজানুর রহমান বলেন, আজ সকালের খাবার শেষে অন্য শিশুরা বাইরে কাজে গেলেও হাসান কক্ষেই ছিল। কিছুক্ষণ পর দুই শিশু কক্ষে ফিরে হাসানকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে। সে সময় তার মুখে রক্তের দাগ ছিল। পরে দ্রুত তাকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসান ‘কিছুটা’ মানসিক প্রতিবন্ধী ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
শিশুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহাবুবুর রহমান। তিনি বলেন, মরদেহের গলায় আঘাতের দাগ আছে।
খবর পেয়ে গাংনী থানা-পুলিশ হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান।
নিহত হাসান আলীর বাবা বিপ্লব হোসেন গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মরদেহের পাশে বসে বিলাপ করছিলেন। তিনি বারবার বলছিলেন, ‘আমার ছেলেকে এতিমখানায় দেওয়াই কাল হলো। লেখাপড়া করতে দিয়ে আমার ছেলে মরেছে।’