
গাজীপুরের কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শন চালিয়ে দালালের মাধ্যমে সরকারি কাজ করানো এবং দাপ্তরিক কাজে অবহেলার অভিযোগে চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আজ সোমবার সকালে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) নূরুল করিম ভূঁইয়া এ ব্যবস্থা নেন।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া চারজন হলেন কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা ওয়াজেদ আলী খান, অফিস সহায়ক শফিকুল ইসলাম, মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল ও তাপস চন্দ্র শীল।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠছিল। গাজীপুরে যোগদানের পর থেকেই জেলা প্রশাসক বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শন শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সকালে তিনি কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শনে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সোহেল রানা, গাজীপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন ও টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার হাসিবুর রহমান।
পরিদর্শনের সময় তাঁরা দেখতে পান, সরকারি দাপ্তরিক কাজ বাইরের লোকজন বা দালালের মাধ্যমে করানো হচ্ছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, সেবাগ্রহীতাদের যথাযথ সেবা না দেওয়াসহ একাধিক অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে ওই চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
কাশিমপুর ভূমি অফিসে যাঁরা আছেন, তাঁরা কাজের উপযুক্ত নন। তাঁরা কোনো কাজই প্রকৃত নিয়ম মেনে করছেন না।নূরুল করিম ভূঁইয়া, জেলা প্রশাসক
জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, কাশিমপুর ভূমি অফিসে যাঁরা আছেন, তাঁরা কাজের উপযুক্ত নন। তাঁরা কোনো কাজই প্রকৃত নিয়ম মেনে করছেন না। এ ছাড়া তাঁদের বিরুদ্ধে অনেক মানুষের অভিযোগ রয়েছে। সেই অভিযোগের আলোকে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ব্যাখ্যা চাইলে তাঁরা ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। নামজারির সফটওয়্যার আছে, সেটিও দেখাতে পারেননি। এসব কারণেই সেখানে কর্মরত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। পরে জেলা প্রশাসক সফিপুর ভূমি অফিসে যান এবং সেখানে তাঁদের কিছু দিকনির্দেশনা দেন।