কাউসার আলী
কাউসার আলী

ঝিনাইদহে মেসে খাবার নিয়ে বিরোধ, ছুরিকাঘাতে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

মেসে খাবার খাওয়া ও বাজার করা নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে ঝিনাইদহ শহরে ছুরিকাঘাতে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে শহরের মহিলা কলেজপাড়ার একটি মেসে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এক মাদ্রাসাছাত্রকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত কাউসার আলী (২১) হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বৈঠাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার বিভাগের সপ্তম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। আটক লিখন (১৮) ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুঠিদুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি শহরতলির বাড়িবাথান দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্র।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাউসার ও লিখন মহিলা কলেজপাড়ার ওই মেসে একই কক্ষে থাকতেন। আজ সন্ধ্যায় মেসে খাবার না থাকা ও বাজার করা নিয়ে মেস ব্যবস্থাপকের সঙ্গে লিখনের কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় কাউসার সেখানে এসে বিষয়টি নিয়ে কথা বললে লিখনের সঙ্গে তাঁর তর্ক শুরু হয়। কাউসার সেখানে থাকা একটি কাঠের টুকরা দিয়ে লিখনকে আঘাত করেন। এরপর দুজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এতে লিখনও আহত হন। একপর্যায়ে পাশে থাকা একটি ছুরি দিয়ে লিখন কাউসারের পিঠে আঘাত করেন। পরে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় কাউসারকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

আটক মাদ্রাসাছাত্র লিখন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের কলেজপাড়া এলাকায়

মেসের আরেক শিক্ষার্থী আল আমিন হোসেন বলেন, খাবার ও বাজার করা নিয়ে তাঁদের মধ্যে ঝামেলার সূত্রপাত হয়। বৃহস্পতিবার কাউসারের পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা শেষে তিনি মেসে ফিরে খাবার খেয়ে নেন। এ সময় লিখনের খাবার কম পড়ে যাওয়ায় তিনি মেস ব্যবস্থাপককে বকাঝকা করছিলেন। পরে কাউসার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে দুজনের মধ্যে তর্ক হয়। একপর্যায়ে কাউসার কাঠের টুকরা দিয়ে লিখনকে আঘাত করলে লিখন ছুরি দিয়ে তাঁকে আঘাত করেন।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাহিদ ইসলাম তন্নী বলেন, সন্ধ্যার পর কয়েকজন রক্তাক্ত অবস্থায় এক তরুণকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে পরীক্ষা করে দেখা যায়, সে মারা গেছে।

মাদ্রাসাছাত্র লিখনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, নিহত তরুণের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।