
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে দুটি বহুতল ভবন ও ১৯টির বেশি জমির মালিক চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ৩৯ নম্বর দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জিয়াউল হক ওরফে সুমন। পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী শাহনাজ আকতারও ২ কোটি টাকার মালিক। দুদক বলছে, দুর্নীতির মাধ্যমে ১৮ কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন এই দম্পতি। এই অভিযোগে দুজনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুদক চট্টগ্রামের উপসহকারী পরিচালক আপেল মাহমুদ বাদী হয়ে নিজ কার্যালয়ে মামলা দুটি করেন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আলোচনায় আসেন দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন। ২০২৪ সালে ৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা-ইপিজেড) আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী এম এ লতিফের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে।
আলোচিত এই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, নগরের দক্ষিণ হালিশহরে একটি নয়তলা বাড়ি ও সেমিপাকা একতলা ঘর এবং কক্সবাজার জেলার ঝিলংজা পৌর এলাকায় একটি আটতলা ভবন রয়েছে জিয়াউল হকের। এ ছাড়া ১৯টির বেশি জমি ও বেশ কিছু পুকুর রয়েছে নগরের হালিশহর ও পতেঙ্গা এলাকায়। স্বামীর অবৈধ টাকায় সম্পদের মালিক হয়েছেন স্ত্রীও। এ জন্য স্বামী স্ত্রী দুজনের বিরুদ্ধে ১৮ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
দুদকের মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, জিয়াউল হক ২০২২ সালের ২৭ এপ্রিল সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। যাচাই-বাছাইয়ে তার প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ বিবরণীতে প্রদর্শিত সম্পদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি পাওয়া যায়। ২০১৩-১৪ থেকে ২০২১-২২ করবর্ষে প্রদর্শিত আয়ের বড় একটি অংশের পক্ষে গ্রহণযোগ্য রেকর্ডপত্রও তিনি উপস্থাপন করতে পারেননি বলে দুদক জানায়। জিয়াউল হকের জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১৬ কোটি ৫১ লাখ ১০ হাজার ৩৫২ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার তথ্য পায় দুদক।
আরেক মামলার এজাহারে বলা হয়, জিয়াউল হকের স্ত্রী শাহনাজ আকতারের ২ কোটি ২ লাখ ২৬ হাজার ২৬৯ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার তথ্য পায় দুদক। এই মামলায় স্ত্রীকে সহায়তার অপরাধে জিয়াউল হককেও আসামি করা হয়েছে।
এর আগে জিয়াউল ও তাঁর স্ত্রীর অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানের সময় দুদক জানতে পারে এটি হস্তান্তরের চেষ্টা চলছে। তখন গত বছরের ২৪ জুন দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম তাঁদের দুজনের ১১ কোটি ৬২ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছিলেন। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে পলাতক রয়েছেন জিয়াউল হক। এ কারণে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।