কুমিল্লার তিতাস উপজেলার কেশবপুর গ্রামে টিউবওয়েল ব্যবহারকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ছোট ভাই রাজীব মিয়ার কোদালের কোপে বড় ভাই মানিক মিয়া ফকির (৪২) নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলার জগৎপুর ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মানিক মিয়া ওই গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি দিনমজুর ছিলেন।
ঘটনার প্রায় তিন ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজীব মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে নিহত ব্যক্তির স্ত্রী ফাতেমা আক্তার বাদী হয়ে রাজীব মিয়াকে একমাত্র আসামি করে গতকাল রাতে তিতাস থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
ফাতেমা আক্তার বলেন, মানিক মিয়ার বাড়িতে বসানো টিউবওয়েলটি ছোট ভাই রাজীব মিয়া নিয়মিত ব্যবহার করতেন। ব্যবহার করতে গিয়ে তিনি প্রায়ই টিউবওয়েলটি নষ্ট করতেন। ফলে মেরামত না হওয়া পর্যন্ত মানিকের পরিবারের সদস্যদের দুর্ভোগ পোহাতে হতো। গতকাল রাজীব টিউবওয়েল ব্যবহার করতে এলে মানিক তাঁকে একটু সাবধানে ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। এতে রাজীব ক্ষুব্ধ হন এবং দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে রাজীব তাঁর বড় ভাইকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। পরে হাতের কাছে থাকা একটি কোদাল দিয়ে মানিকের গলা ও ঘাড়ে পরপর তিনটি কোপ দেন। এ ঘটনায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সরফরাজ হোসেন খান বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার আগেই মানিক মিয়া মারা গেছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিলাপ করতে করতে নিহত ব্যক্তির স্ত্রী ফাতেমা আক্তার বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন মানিক মিয়া। তাঁদের তিনটি মেয়ে। বড় মেয়ে দশম শ্রেণিতে, মেজ মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে। ছোট মেয়েটি আরও কম বয়সী। এখন তিনি তিন মেয়েকে নিয়ে কী করবেন, কোথায় যাবেন, কীভাবে তাঁদের লেখাপড়া করাবেন, খাওয়াবেন?
তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিরুল হক বলেন, নিহত মানিক মিয়ার লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য গতকাল সন্ধ্যায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামি রাজীব মিয়াকে আজ বৃহস্পতিবার কুমিল্লার আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হবে।