মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন
মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন

নির্বাচনী প্রচারণায় গুলি ও জোড়া খুন, ‘সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমনের ৭ দিনের রিমান্ড

চট্টগ্রামে বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনী প্রচারণায় গুলিতে একজন নিহত এবং নগরের বাকলিয়ায় জোড়া খুনের পৃথক দুই মামলায় মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বুধবার পৃথক শুনানি শেষে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদ ও মো. আলমগীর হোসেন এ আদেশ দেন।

নগর পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, বায়েজিদ বোস্তামী থানার নির্বাচনী প্রচারণায় গুলিতে সরোয়ার হোসেন বাবলা হত্যা মামলায় ইমনের দুই দিন এবং বাকলিয়া থানার জোড়া খুনের মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। দুপুরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ইমনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

২০২৫ সালের ৩০ মার্চ রাতে আধিপত্য বিস্তার, পূর্ববিরোধ ও বালুমহাল দখলকে কেন্দ্র করে নগরের বাকলিয়া অ্যাকসেস রোডে একটি প্রাইভেট কার লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। ওই গাড়িতে থাকা সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন বেঁচে গেলেও তাঁর দুই সহযোগী বখতিয়ার হোসেন ও আবদুল্লাহ আল রিফাত নিহত হন। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলার আসামি ডেভিড ইমন।

২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার হাজীপাড়া এলাকায় চট্টগ্রাম–৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনী জনসংযোগে গুলি চালানো হয়। এতে এরশাদ উল্লাহ পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। তাঁর সঙ্গে থাকা সরোয়ার হোসেন বাবলাকে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ মামলারও আসামি ইমন।

ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পথে গত ২৯ জুলাই সকালে যশোর থেকে ইমন ও তাঁর তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইমন পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের হয়ে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া দুজনের একজন ইমন। অন্যজন মোহাম্মদ রায়হান। বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। ব্যবসায়ী, প্রবাসী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবির জন্য ইমন বেশি ফোন করতেন বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তারা।

কে এই ইমন

ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তাঁর বাবা মো. মুসা ওমানপ্রবাসী ছিলেন। কয়েক বছর আগে তিনি মারা যান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের দলে যুক্ত হন ইমন। বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ গত বছরের ১৫ মার্চ ঢাকায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর ইমন বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী হয়ে ওঠেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।