বরিশালে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশকে সামনে রেখে নিজের অনুসারী ‘পদবঞ্চিত’ নেতাদের নিয়ে সভা করেছেন দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার। আজ রোববার বরিশাল নগরের কাউনিয়া এলাকায় মজিবরের বাড়ির আঙিনায় এই সভা হয়। এতে নগরের ৩০টি ওয়ার্ড বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও মহানগর কমিটির ‘পদবঞ্চিত’ নেতাসহ দুই শতাধিক দলীয় সমর্থক যোগ দেন।
মজিবর রহমান বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও জাতীয় সংসদের হুইপ ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি প্রায় ২০ বছর মহানগর বিএনপির সভাপতি ছিলেন। এ জন্য স্থানীয় বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোতে তাঁর বেশ প্রভাব রয়েছে। তবে গত বছরের নভেম্বরে মহানগর বিএনপির কমিটি ভেঙে দিয়ে মনিরুজ্জামান খানকে আহ্বায়ক করা হয়। বাদ পড়েন মজিবর রহমান। অনুসারী নেতারাও কমিটিতে ঠাঁই না পাওয়ায় কোণঠাসা হয়ে পড়েন তিনি। তবে তাঁরা সংগঠিত হয়ে আলাদাভাবে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান করে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছেন।
মহানগর কমিটি নিয়ে চলা দ্বন্দ্বের মধ্যে গত ১১ মার্চ ৩০টি ওয়ার্ডের পূর্ণাঙ্গ কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এতে বাদ পড়া নেতারা ব্যাপক ক্ষুব্ধ হন। সেই থেকে দলীয় কোনো কর্মকাণ্ডে তাঁদের অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে না।
আজকের সভায় অংশ নেওয়া কয়েকজন নেতা জানান, আজ বেলা ১১টায় এই সভা শুরু হয়ে বেলা ১টায় শেষ হয়। সভায় বক্তব্য দেওয়া মহানগর ও ওয়ার্ড কমিটির সাবেক কয়েকজন নেতা বলেন, দলের কোনো পদ-পদবিতে তাঁদের রাখা হয়নি। এমনকি দলীয় কোনো কর্মসূচিতেও তাঁদের ডাকা হচ্ছে না। তাঁদের এড়িয়ে চলছেন মহানগর কমিটির বর্তমান নেতারা। যাঁরা এত দিন নেতৃত্ব দিয়ে দলকে সংগঠিত করেছেন, তাঁদের বাদ দিয়ে ওয়ার্ড কমিটি করা হচ্ছে। এসব কমিটিতে স্থান পাওয়া অনেকেই দলের সঙ্গে ছিল না।
জবাবে মজিবর রহমান বলেন, বরিশাল নগর বিএনপিতে যাঁরা পদবঞ্চিত, তাঁদের সংগঠিত করতেই এই সভা আহ্বান করা হয়েছে। এখন দলের ভেতরের বিভক্তি ভুলে আগামী ৫ নভেম্বরের সমাবেশকে সফল করতে হবে। এখন দ্বন্দ্ব-ক্ষোভের সময় নয়। দলীয় চেয়ারপারস বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।
মজিবর রহমান আরও বলেন, এই অবৈধ সরকার দেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে, মত প্রকাশের অধিকার কেড়ে নিয়ে গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে। চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনার সমাবেশে হামলা-মামলা, নির্যাতন এবং সব ধরনের পরিবহন বন্ধ করে দিয়ে জনগণের দাবিকে প্রতিহত করতে চেয়েছিল। কিন্তু জনগণ তার দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছে। বরিশালের সমাবেশেও এ ধরনের বাধা আসবে। বাধার জবাব দিতে হবে।
সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ আকবর, সহসাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক, বিএনপির নেতা আহসান কবির প্রমুখ।