দক্ষিণ আফ্রিকার সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত আওয়ামী লীগ নেতা আবু নাছের
দক্ষিণ আফ্রিকার সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত আওয়ামী লীগ নেতা আবু নাছের

দক্ষিণ আফ্রিকায় আ.লীগ নেতা খুন

আশঙ্কা থাকায় বুলেটপ্রুফ গ্লাস লাগান, নিয়োগ দিয়েছিলেন বডিগার্ডও

হামলা হতে পারে, এমন আশঙ্কা আগে থেকেই করছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবু নাছের (৫০)। এ জন্য নিজের দোকানে লাগিয়েছিলেন বুলেটপ্রুফ গ্লাস। নিয়োগ দিয়েছিলেন নিরাপত্তারক্ষীও ( বডিগার্ড)। তবে শেষ পর্যন্ত সন্ত্রাসীদের গুলিতে মরতে হলো তাঁকে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ শহরের অদূরে সোয়েটো শহরে এ ঘটনা ঘটে।

আবু নাছেরের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোয়েটো শহরের নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে তাঁকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। স্বজনদের দাবি, এটি সাধারণ ডাকাতির ঘটনা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ভাড়াটে খুনিদের দিয়ে তাঁকে খুন করানো হয়েছে।

স্থানীয় প্রবাসীরা জানান, নিজের নিরাপত্তা জোরদার করলেও আবু নাছেরকে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনেই সন্ত্রাসীরা গুলি করে। তাঁকে লক্ষ্য করে ছয় থেকে সাত রাউন্ড গুলি চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে তারা। আরেক প্রবাসী বাংলাদেশির সঙ্গে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক বিরোধ থেকেই এ হত্যার ঘটনা বলে নাছেরের পরিবারের সন্দেহ।

আবু নাছের নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাদামতলী এলাকার বাসিন্দা। দক্ষিণ আফ্রিকায় তাঁর শপিং মল রয়েছে।

নিহত আবু নাছেরের বড় ছেলে আবু রাফসান বলেন, তাঁর বাবা ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। এর পর থেকে সেখানেই বিভিন্ন ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। কিছুদিন আগে একটি বড় দোকানের অংশীদার নিয়ে তাঁর বাবার সঙ্গে নোয়াখালীর আরেক ব্যবসায়ীর বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরপরই তিনি খুন হন। আবু নাছের দক্ষিণ আফ্রিকা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন বলেও তাঁর ছেলে রাফসান নিশ্চিত করেন।

আবু রাফসানের অভিযোগ, এ দ্বন্দ্বের পর থেকেই তাঁরা শঙ্কিত ছিলেন। পরে নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে দোকানে বুলেটপ্রুফ গ্লাস ও বডিগার্ড নিয়োগ দেন তাঁর বাবা। তবে এরপরও রক্ষা হয়নি। গতকাল দোকানটির সামনে তাঁর বাবাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আগে থেকে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা ছয় থেকে সাত রাউন্ড গুলি করে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তাঁর বাবার মৃত্যু হয়।